‘ইন্ডিয়া জোট সোনার পাথরবাটি!’ রাহুলের পর এবার মমতার ওপর সপা-র মারাত্মক তোপ

‘ইন্ডিয়া জোট সোনার পাথরবাটি!’ রাহুলের পর এবার মমতার ওপর সপা-র মারাত্মক তোপ

কলকাতা: ফাটল ধরেছিল আগেই, এবার চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর সেই অবিশ্বাসের ফাটল আরও চওড়া হলো বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটে। একের পর এক শরিক দলের আক্রমণ, কাদা ছোড়াছুড়ি এবং বিস্ফোরক মন্তব্যে কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই জোট। এবার রাহুল গান্ধীকে ডিএমকে-র খোঁচা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টির (SP) নজিরবিহীন আক্রমণে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।

‘অপরিণত, বিশ্বাসভঙ্গকারী’ রাহুল! মুখপত্রে তোপ ডিএমকে-র

সম্প্রতি তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের পর স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব বেড়েছে। গত ৮ জুনের এক বৈঠকে রাহুল গান্ধী বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিলে ডিএমকে নেতৃত্ব খোঁচা দিয়ে বলেন, “বিলম্বিত বোধোদয় হয়েছে তাহলে।” এর সপ্তাহখানেক পরেই, সোমবার ডিএমকে-র নিজেদের মুখপত্র ‘মুরাসলি’-তে রাহুল গান্ধীকে তীব্র নিশানা করা হয়। সেখানে রাহুলের নামের আগে ‘রাজনৈতিক ভাবে অপরিণত’ এবং ‘বিশ্বাসের যোগ্য নন’—এমন চোখা-চোখা বিশেষণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।

“মমতা দুটো জায়গাতেই হেরেছেন, তৃণমূল গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে”

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে। যে অখিলেশ যাদব ও কিরণময় নন্দরা সবসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকতেন, তাঁরাই এবার মমতাকে একহাত নিলেন। সপা-র বর্ষীয়ান নেতা কিরণময় নন্দ নির্বাচন কমিশনকে কার্যত ক্লিনচিট দিয়ে দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটো জায়গাতেই হেরেছেন। ভবানীপুরের মানুষই চেয়েছিল মমতাকে হারাতে। আমি অখিলেশ যাদবকেও বলেছি, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন একদম ঠিকঠাক হয়েছে এবং মানুষ রায়ে তৃণমূলকে তাড়িয়ে বিজেপিকে এনেছে।”

এখানেই থামেননি তিনি। বিধানসভার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কিরণময় বলেন, “ভারতবর্ষের ইতিহাসে এত নক্কারজনক ঘটনা আগে ঘটেনি। গণতন্ত্র ও বিধানসভার গরিমাকে যদি কেউ ধ্বংস করে থাকে, তবে তা তৃণমূল কংগ্রেস করেছে।”

‘ইন্ডিয়া জোট সোনার পাথরবাটি’

জোটের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সপা নেতা কিরণময় নন্দ স্পষ্ট জানান, “পদ্মপাতার জলের মতো অবস্থা তৃণমূলের, কোনদিকে কখন পড়ে যায় ঠিক নেই। ইন্ডিয়া জোট আছে ঠিকই, তবে নির্বাচনের সময়ে তা কাজ করে না। ৫টি রাজ্যে নির্বাচন হয়ে গেল, কোথায় জোট কাজ করল? আজ ইন্ডিয়া জোট আসলে একটা সোনার পাথরবাটি।”

প্রসঙ্গত, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে মহাবিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে যখন বিদ্রোহের আঁচ, তখনই জোটের শরণাপন্ন হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শরিকদের এই চরম বৈরিতা দেখে দিল্লির রাজনৈতিক মহলের ধারণা—আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছেন, শরিকদের এমন বিদ্রোহে সেই ‘ইন্ডিয়া জোট’ আদৌ টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *