ধানের বস্তায় লুকিয়ে আসছিল বিপুল মাদক, নদীয়ায় পুলিশের জালে আন্তর্জাতিক চক্রের দুই পাণ্ডা

নদীয়ায় ধানের চালানের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন। শান্তিপুর থেকে শিমুরালি যাওয়ার পথে হবিবপুর এলাকায় রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) ও রানাঘাট থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ১৫৬ কেজি নিষিদ্ধ গাঁজা বাজেয়াপ্ত করেছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে এই অতর্কিত অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া এই মাদকের চালানটি কোচবিহার থেকে আনা হয়েছিল এবং তা নদীয়ার স্থানীয় এলাকায় সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল।
রুট পরিবর্তন ও পাচারের অভিনব কৌশল
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি নজরদারি এড়াতে মাদক পাচারকারীরা তাদের কৌশলে বড়সড় বদল এনেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এবার ধানের বস্তার আড়ালে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল মাদকবাহী চারটি বড় বস্তা। নজরদারি এড়াতে মূল মহাসড়ক বাদ দিয়ে শান্তিপুর-শিমুরালি আঞ্চলিক রুটকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আন্তঃজেলা তথা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রগুলো এখন নজরদারি এড়াতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পরিবহনের আড়ালে এই ধরণের নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচার করছে।
নেটওয়ার্ক বিস্তারের আশঙ্কা ও কড়া নজরদারি
পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েকদিনে উপর্যুপরি মাদক চক্রের সন্ধান মেলায় সীমান্ত ও আন্তঃজেলা সীমান্তগুলোতে বড় ধরনের পাচারকারী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। এর ঠিক আগের দিনই মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় একটি গোপন হেরোইন তৈরির ল্যাবের হদিশ পেয়েছিল পুলিশ, যেখানে ভিন রাজ্য থেকে এসে ঘাঁটি গেঁড়েছিল অপরাধীরা। পরপর এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, স্থানীয় তরুণ সমাজকে টার্গেট করে মাদকের একটি বড় বাজার তৈরির চেষ্টা চলছে। এই চক্রের মূল শিকড় উৎপাটন করতে ধৃত দুই অভিযুক্তকে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং কোচবিহার থেকে নদীয়া পর্যন্ত বিস্তৃত পুরো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বাকি অপরাধীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।