সাঁওতালডিহি ও বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্প্রসারণে এবার বেসরকারি বিনিয়োগ!

রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সাঁওতালডিহি ও বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্প্রসারণে বেসরকারি বিনিয়োগের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। এই দুটি কেন্দ্রের পরিকাঠামো বৃদ্ধির জন্য ইতিমধ্যেই ট্যারিফ ভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেলে তৈরি হতে চলা এই প্রকল্পে বিনিয়োগকারী হিসেবে আদানি এবং টরেন্ট পাওয়ার গোষ্ঠীর নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে। এর আগে গত বছর শালবনিতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার ক্ষেত্রেও এই দুই সংস্থা গভীর আগ্রহ দেখিয়েছিল।
চাহিদা বৃদ্ধি ও পিপিপি মডেলের কারণ
বিদ্যুৎ দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে প্রতি বছর গড়ে ৭–৮ শতাংশ হারে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এই চাহিদা ১০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। নিজস্ব উৎপাদনের ঘাটতি মেটাতে এনটিপিসি বা ডিভিসি-র পাশাপাশি খোলাবাজার থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হচ্ছে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। এই বিপুল ব্যয়ভার এবং নিজস্ব আর্থিক সংকটের কথা মাথায় রেখেই সম্প্রসারণের জন্য পিপিপি মডেল বেছে নেওয়া হয়েছে। সাঁওতালডিহিতে ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি এবং বক্রেশ্বরে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি নতুন ইউনিট তৈরি করতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাজ্য।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্ভাব্য প্রভাব
বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং চড়া দামে বিদ্যুৎ কেনার নির্ভরতা কমবে। ইতিমধ্যেই পিপিপি মডেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দুটি ৮০০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ ইউনিট গড়ছে জিন্দাল গোষ্ঠী, যা ২০৩০ সাল নাগাদ উৎপাদন শুরু করবে। সাঁওতালডিহি ও বক্রেশ্বরের সম্প্রসারণ সফলভাবে সম্পন্ন হলে তা রাজ্যের সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।