‘আমি না থাকলে ইজরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না’! নেতানিয়াহুকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সোমবার ইজরায়েলের পক্ষ থেকে একটি কড়া বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় যে, তারা ট্রাম্পের কথা মেনে চলতে বাধ্য নয়। এই মন্তব্যের পরই পালটা তোপ দেগেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পাশে না থাকলে আজ ইজরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না।
দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট ও কারণ
দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ দুটির মধ্যে এই অভাবনীয় দ্বন্দ্বের মূল কেন্দ্রে রয়েছে আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি। ইজরায়েল বরাবরই ইরানকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। তাই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যেকোনো রকম আপস বা চুক্তির ঘোর বিরোধী নেতানিয়াহু প্রশাসন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন কূটনৈতিক স্বার্থে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এই বিপরীতমুখী অবস্থান থেকেই ইজরায়েল প্রকাশ্যে মার্কিন নেতৃত্বকে অস্বীকার করে বিবৃতি দেয়, যার জেরে ট্রাম্প এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের মধ্যে এমন প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন-ইজরায়েল সম্পর্কের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে। মিত্র দেশ দুটির এই দূরত্বের সুযোগ নিয়ে ইরান ওই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান ও প্রভাব আরও সুসংহত করার সুযোগ পেতে পারে। এছাড়া, ইজরায়েল যদি আমেরিকার পরোয়া না করে নিজেদের সুরক্ষায় একতরফা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম অস্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।