মার্কিন অবরোধ উঠতেই হরমুজ দিয়ে বিশ্ববাজারে ইরানি তেল, একধাক্কায় কমল দাম!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবসানের পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ তুলে নিয়েছেন। প্রায় দুই মাস পর এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ফের সচল হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের বিশাল চালান
অবরোধ ওঠার পরপরই ইরানি অপরিশোধিত তেল বোঝাই শুরু করেছে জাহাজগুলো। ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাঙ্কার কো ম্পা নির (এনআইটিসি) দুটি সুপারট্যাঙ্কার, ডিওনা ও হিরো২, প্রায় ৩৮ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে মার্কিন অবরোধ রেখা অতিক্রম করেছে। গত দুই মাসের মধ্যে এটিই প্রথম তেল রফতানি, যা ১৫ জুন, ২০২৬ তারিখের স্যাটেলাইট চিত্র ও এআইএস ডেটা দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পরপরই আরও ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে তৃতীয় একটি সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কার যাত্রা করেছে যার মধ্যে একটি ট্যাঙ্কার পাকিস্তানের দিকে যাচ্ছে। দীর্ঘ সাত সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা স্ট্রিম নামের অপর একটি ট্যাঙ্কারকেও ফের ইরানে প্রবেশের জন্য অবরোধ রেখার দিকে যেতে দেখা গেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাস ও অর্থনৈতিক প্রভাব
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই শান্তি চুক্তির সরাসরি এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। চুক্তির ঘোষণার পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে লক্ষণীয়ভাবে কমতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকা ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের নীচে নেমে ৭৯.০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি, ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৬.১৫ ডলারে এবং মুরবান ক্রুডের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমে ৭১ ডলারে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের এই ব্যাপক দরপতনের ফলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।