শ্রমিক সরবরাহের আড়ালে হেরোইনের রমরমা কারবার! পুলিশের জালে ৭

মুর্শিদাবাদের নিউ ফরাক্কা বিডিও অফিস সংলগ্ন লোহাপট্টি এলাকায় শ্রমিক সরবরাহের ব্যবসার আড়ালে চলছিল হেরোইন তৈরির গোপন কারখানা। সোমবার রাতে ফরাক্কা থানার পুলিশের আকস্মিক অভিযানে এই বেআইনি মাদক চক্রের পর্দাফাঁস হয়। নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ চারজন মহিলা-সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যা আন্তঃরাজ্য মাদক চোরাচালানের ক্ষেত্রে একটি বড়সড় সাফল্য।
গোপন কারখানার পর্দাফাঁস ও পুলিশের অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছ’মাস আগে মালদহের কালিয়াচক এলাকার বাসিন্দা ইশা হক এবং ইসমাইল শেখ ফরাক্কায় ঘর ভাড়া নেয়। বাড়িওয়ালাকে তারা জানিয়েছিল যে তারা লেবার সাপ্লাই বা শ্রমিক সরবরাহের কাজ করে। কিন্তু সেই পরিচয়ের আড়ালে তারা মূলত হেরোইন তৈরি ও মজুত করত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ওই ভাড়াবাড়িতে হানা দিয়ে ৩০০ গ্রাম হেরোইন, মাদক তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে লুকিয়ে রাখা নগদ ৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে ইশা হক, তাদের আত্মীয় মহম্মদ আসলাম এবং বিহার থেকে মাদক কিনতে আসা রোহিত সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এই চক্রের মূল পাণ্ডা ইসমাইল শেখ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালাতে সক্ষম হয়।
আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের জাল ও সম্ভাব্য প্রভাব
ফরাক্কাকে একটি নিরাপদ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে মাদক কারবারিরা মূলত বিহার ও ঝাড়খণ্ডে এই হেরোইন পাচার করত বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে। ভিন রাজ্যে মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজে মহিলাদের ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হত। এই অভিযানে বিহারের আরারিয়া এলাকার বাসিন্দা চারজন মহিলা—রাজিয়া, জেরিনা, মদিনা ও সাকিনা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফরাক্কার মতো সীমান্ত ও ভিন রাজ্যের সংযোগস্থলে এই ধরনের কারবার গড়ে ওঠার মূল কারণ হলো অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সহজে আন্তঃরাজ্য সীমানা পার করার সুবিধা। পুলিশের এই অভিযানের ফলে বিহার ও ঝাড়খণ্ডমুখী মাদকের একটি বড় সরবরাহ লাইন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃত সাতজনকে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ এনডিপিএস আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পলাতক ইসমাইলসহ চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন।