ঘুরতে নয় কাজের জন্য আসব, কার্শিয়াং থেকে তৃণমূলকে নিশানা করে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম পাহাড় সফরেই উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিট গ্রাউন্ডের এক মেগা জনসভা থেকে পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের বার্তা দিয়ে এক নতুন রোডম্যাপ তুলে ধরেন তিনি। পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, আগের মুখ্যমন্ত্রী যেখানে পাহাড়ে শুধু ঘুরতে আসতেন, সেখানে তিনি আসবেন কেবল উন্নয়ন ও কাজের তাগিদে। ২০০৯ সাল থেকে পাহাড়বাসী যেভাবে বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছে, এবার সেই ভালোবাসার ঋণ শোধ করার সময় এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চা-শ্রমিকদের জন্য বড় পদক্ষেপ ও জিটিএ দুর্নীতিতে হুঁশিয়ারি
পাহাড়ের অর্থনীতির মূল ভিত্তি চা-শিল্পের সংকট মোচনে এদিন বড় আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকারের দুর্নীতির কারণেই ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রীর চালু করা ‘পিএম চা-শ্রমিক যোজনা’ এতদিন থমকে ছিল। এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বন্ধ থাকা ২৫টি চা-বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৩৩৪ কোটি টাকার কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-এর পূর্বতন কাজকর্মের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের আমলে হওয়া সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবে এবং দোষীদের জেলে পোরা হবে। নতুন সরকার কোনোভাবেই তোলাবাজি বা কাটমানি বরদাস্ত করবে না। একই সাথে গোর্খাদের বিরুদ্ধে হওয়া বিগত আমলের সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও আশ্বাস দেন তিনি।
ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল ও রাজনৈতিক সমীকরণ
পাহাড়ে কেন্দ্রের থমকে থাকা প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করতে রাজ্য ও কেন্দ্রের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ, সরকারি স্কুলগুলিতে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ তৈরি এবং ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় স্পোর্টস গ্রাউন্ড ও ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের কথা ঘোষণা করা হয়। এদিনের সভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, সাংসদ রাজু বিস্তা, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সহ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং ও জিএনএলএফ সভাপতি মন ঘিসিং-এর উপস্থিতি পাহাড়ের রাজনীতিতে এক নতুন এবং শক্তিশালী সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।