ছাঁট কাঠ বাড়ি নেওয়া বন্ধের প্রতিবাদে উত্তপ্ত পুরী, ধর্মঘটের জেরে থমকে গেল রথ নির্মাণ!

ছাঁট কাঠ বাড়ি নেওয়া বন্ধের প্রতিবাদে উত্তপ্ত পুরী, ধর্মঘটের জেরে থমকে গেল রথ নির্মাণ!

বিশ্ববিখ্যাত পুরীর জগন্নাথ দেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার প্রস্তুতিতে আচমকাই ছন্দপতন ঘটল। রথ নির্মাণে ব্যবহৃত অবশিষ্ট বা ছাঁট কাঠ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ওপর আকস্মিক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে নির্মাণকারী কারিগরদের মধ্যে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার প্রায় চার ঘণ্টা তিনটি রথেরই নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হন মহারানা সেবক সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সূত্রধররা। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু হওয়া টানা ৫৮ দিনের নিরবচ্ছিন্ন কাজের পর এই আকস্মিক অচলাবস্থায় রথযাত্রার প্রস্তুতি ঘিরে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হয়।

ঐতিহ্য বনাম নতুন প্রশাসনিক বিধিনিষেধ

বিক্ষোভকারী কাঠমিস্ত্রিদের দাবি, জগন্নাথ মন্দিরের অধিকার সংক্রান্ত প্রাচীন নথি অনুযায়ী, রথ তৈরির পর অবশিষ্ট থাকা ছোট ছোট কাঠের টুকরো নিজেদের কাছে রাখার অধিকার তাঁদের রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রথা সগৌরবে চলে আসছে। সম্প্রতি শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (এসজেটিএ) একটি নির্দেশিকা জারি করে ওই ছাঁট কাঠ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কারিগরদের অভিযোগ, তাঁরা কোনো বড় কাঠ নেন না, কেবল চার ফুটের কম দৈর্ঘ্য এবং তিন ফুটের কম প্রস্থের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র টুকরোই সংগ্রহ করতেন। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে একতরফা এবং অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন তাঁরা।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত ভবিষ্যতের রথ নির্মাণে পুনঃব্যবহারের লক্ষ্যে অবশিষ্ট কাঠ সংরক্ষণ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার জেরে এই নতুন বিধিনিষেধ। তবে রথযাত্রার মাত্র এক মাস আগে এই ধরনের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত বিঘ্ন ঘটতে পারত মূল উৎসবে। আগামী ১৬ জুলাই বিশ্বখ্যাত এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভগবান জগন্নাথের ৪৫.৬ ফুট উঁচু নন্দীঘোষ, বলভদ্রের ৪৫ ফুট উঁচু তালধ্বজ এবং সুভদ্রার ৪৪.৬ ফুট উঁচু দর্পদলন রথ তৈরিতে প্রায় ৮৬৫টি বড় কাঠের গুঁড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ২০০ জন দক্ষ কারিগর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত। সামান্য সময়ের জন্য হলেও কাজ বন্ধ হওয়ায় সময়মতো রথ প্রস্তুত হওয়া নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছিল।

আর্থিক ক্ষতিপূরণের আশ্বাসে কাটল অচলাবস্থা

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মন্দির প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনটি রথের প্রধান সূত্রধরদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের নীতি প্রশাসক প্রিয়রঞ্জন প্রুস্টি। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশিষ্ট কাঠের পরিবর্তে কারিগরদের উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে বরফ গলে। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর দীর্ঘ চার ঘণ্টার অচলাবস্থা কাটিয়ে পুনরায় কাজে ফেরেন সূত্রধররা। রথযাত্রার আগে সাময়িকভাবে এই সংকট দূর হলেও, ঐতিহ্যবাহী অধিকার বনাম প্রশাসনিক সংস্কারের এই সংঘাত আগামী দিনেও বিতর্কের পথ খোলা রাখল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *