সস্তায় বিক্রি হচ্ছেন কেন! দলবদলু সাংসদদের ‘হানি প্লাস মানি’ কটাক্ষ মহুয়ার

সস্তায় বিক্রি হচ্ছেন কেন! দলবদলু সাংসদদের ‘হানি প্লাস মানি’ কটাক্ষ মহুয়ার

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের সাংসদদের ভাঙাতে মাথাপিছু ১৫ কোটি টাকা করে খরচ করা হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। আর এই প্রসঙ্গ টেনেই এবার বিদ্রোহী সাংসদদের দিকে ইঙ্গিত করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দলবদলু নেতাদের তীব্র কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেছেন, এত সস্তায় তাঁদের বিক্রি হওয়া উচিত হয়নি।

হিসেব কষে মহুয়ার তোপ

সঞ্জয় রাউতের ১৫ কোটি টাকার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মহুয়া মৈত্র তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে বিদ্রোহী নেতাদের একহাত নিয়েছেন। তিনি ব্যঙ্গের সুরে বলেন, মাত্র ১৫ কোটি টাকায় কেন তাঁরা দল ছাড়ছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের যে সাংসদরা দলবদল করেছেন, তাঁরা শুরুতে সরাসরি চার কোটি টাকা পেয়েছেন এবং তাঁদের কার্যকালের বাকি ৩৬ মাসের জন্য মাসিক এক কোটি টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে অঙ্কটা ৪০ কোটি টাকার আশেপাশে। এই পুরো প্যাকেজটিকে তিনি ‘হানি প্লাস মানি’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সমীকরণ

বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের দলে টানার এই কৌশল বর্তমান ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহুয়া মৈত্রের এই মন্তব্য কেবল দলবদলকারী সাংসদদের নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে না, বরং বিরোধী দলগুলিকে দুর্বল করার নেপথ্যে থাকা বিপুল অর্থের লেনদেনের অভিযোগকেও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে এই ধরনের আর্থিক লেনদেন ও প্রলোভনের অভিযোগ সাধারণ মানুষের কাছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দেয়। এর ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক অবিশ্বাস যেমন বাড়বে, তেমনই দলবদলকারী নেতাদের জনসমর্থনও বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *