তীব্র স্নায়ুর যন্ত্রণায় কাতর সোনু নিগম, কণ্ঠস্বর হারানোর আশঙ্কায় কাটছে বিনিদ্র রাত!

জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী সোনু নিগম মারাত্মক স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি তিনি নিজেই জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ‘পিঞ্চড নার্ভ’ বা স্নায়ুতে অতিরিক্ত চাপের কারণে তীব্র যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এই অতর্কিত অসুস্থতা তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
তীব্র ব্যথার উৎস ও সঠিক শারীরিক অবস্থা নির্ণয়ের জন্য ইতোমধ্যে গায়কের একাধিক এমআরআই (MRI) এবং সিটি স্ক্যান (CT Scan) করানো হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শে কড়া ওষুধ এবং অত্যন্ত কষ্টদায়ক ফিজিওথেরাপি চলছে তাঁর। তবে শারীরিক কষ্টের চেয়েও এই মুহূর্তে এই কিংবদন্তি গায়কের মানসিক উদ্বেগ অন্য জায়গায়।
ঝুঁকিতে গানের গলা
চিকিৎসার প্রয়োজনে সোনু নিগমকে এখন নিয়মিত পেশি শিথিল করার ওষুধ (মাসল রিলাক্সেন্ট) খেতে হচ্ছে। আর এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। গায়ক লক্ষ্য করেছেন, ওষুধ খাওয়ার পর থেকে তাঁর গলা স্বাভাবিকের চেয়ে ভারী হয়ে যাচ্ছে। কণ্ঠস্বরই একজন সংগীতশিল্পীর প্রধান মূলধন এবং বেঁচে থাকার মাধ্যম হওয়ায়, ওষুধ ব্যবহারের ফলে চিরতরে গান গাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই মুহূর্তে ভীষণভাবে চিন্তিত ও শঙ্কিত তিনি।
চিকিৎসকদের মতে, ‘পিঞ্চড নার্ভ’ সাধারণত মেরুদণ্ড বা ঘাড়ের কোনো স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে তৈরি হয়, যার ফলে তীব্র ব্যথা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি দীর্ঘমেয়াদি পেশি দুর্বলতার কারণ হতে পারে। তবে সংগীতশিল্পীর ক্ষেত্রে সুরের প্রধান উৎস কণ্ঠনালী ও ফুসফুসের পেশিগুলোর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি হওয়ায়, এই চিকিৎসার সাময়িক প্রভাব তাঁর পেশাদারী ক্যারিয়ারে বড় ধরণের ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোনুর এই আকস্মিক অসুস্থতার খবরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের মনে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।