চিঠির রাজনীতিতে উত্তাল ময়দান, সিএবির ‘আগ বাড়িয়ে’ সাফাই কি নতুন বিতর্কের জন্ম দিল?

চিঠির রাজনীতিতে উত্তাল ময়দান, সিএবির ‘আগ বাড়িয়ে’ সাফাই কি নতুন বিতর্কের জন্ম দিল?

বাংলার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবি-কে (ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল) ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা ও পত্রযুদ্ধ। সম্প্রতি ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি ও ‘থ্রেট কালচার’ বন্ধের দাবি জানিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-কে একটি চিঠি দেন সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। সেই চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সংস্থার নাম উল্লেখ না থাকলেও, ঘটনার পরদিনই ক্রীড়ামন্ত্রীর দপ্তরে সশরীরে হাজির হয়ে পাল্টা চিঠি জমা দিয়েছেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। কোনো অভিযোগ ছাড়াই ক্রিকেট সংস্থার এই আগ বাড়িয়ে সাফাই দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার ক্রীড়ামহলে নতুন করে গুঞ্জন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিষেকের ‘বেনামী’ তোপ এবং সৌরভের পাল্টা চাল

বিতর্কের সূত্রপাত অভিষেক ডালমিয়ার একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। ক্রীড়ামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, স্বনামধন্য এক ক্রীড়া সংস্থায় অর্থের বিনিময়ে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। অভিষেক ডালমিয়া সরাসরি সিএবির নাম না নিলেও ময়দানের সিংহভাগ মানুষের ধারণা ছিল, তাঁর নিশানা আসলে সিএবি-ই। এই চিঠির প্রেক্ষিতে ক্রীড়ামন্ত্রীও ভবিষ্যতে উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি আসরে নামে সিএবি কর্তৃপক্ষ। বুধবার ক্রীড়ামন্ত্রীর হাতে একটি দীর্ঘ চিঠি তুলে দেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই চিঠির মূল বক্তব্য ছিল, গত ৩০ বছর ধরে সিএবির অন্দরে যাবতীয় কর্মকাণ্ডে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে এবং বাংলার ক্রিকেটের স্বার্থেই সংস্থা কাজ করে। অভিষেকের চিঠির জেরেই যে এই পাল্টা পদক্ষেপ, তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সিএবির পক্ষ থেকে।

সাফাইয়ের নেপথ্যে তৈরি হওয়া জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

যেখানে অভিষেক ডালমিয়া চিঠিতে সিএবির নামই উল্লেখ করেননি, সেখানে ক্রিকেট সংস্থার এমন অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ময়দানের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘আগ বাড়িয়ে’ দেওয়া সাফাই আসলে ‘ঠাকুরঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি’ প্রবাদের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই পদক্ষেপ সিএবির স্বচ্ছতা প্রমাণের চেয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও সংশয়কেই বেশি করে প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই চিঠির আইনি ও প্রশাসনিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বড়সড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। চূড়ান্ত বিতর্কের জেরে সম্প্রতি যুগ্মসচিবের পদ থেকে অপসারিত হওয়া মদনমোহন ঘোষ এই সরকারি চিঠিতে ‘প্রাক্তন’ হিসেবে সই করেছেন। একটি আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক চিঠিতে কোনো প্রাক্তন পদাধিকারীর সই করার এক্তিয়ার থাকে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। সিএবির এই তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক অসঙ্গতি আগামী দিনে বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে আরও বড় সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *