পাড়ায় সমাধানের টাকা গেল কার পকেটে? বাঁকুড়া জুড়ে সিপিএমের পোস্টারে তীব্র শোরগোল!

বাঁকুড়া পুরসভা এলাকা জুড়ে এবার ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের টাকা নিয়ে এক বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলো সিপিআইএম (CPIM)। পূর্বতন সরকারের ভোট-পূর্ববর্তী এই মেগা প্রকল্পের আর্থিক হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে গোটা শহর জুড়ে পোস্টারিং করেছে বামেরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া শহর জুড়ে যেমন তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে, তেমনই স্থানীয় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল ও চাঞ্চল্য।
বুথ পিছু ১০ লক্ষ টাকা কোথায় গেল? সরাসরি জবাব দাবি
সিপিএমের জেলা কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এই পোস্টারগুলিতে মূলত স্থানীয় ওয়ার্ডগুলির কাউন্সিলরদের সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। বামেদের মূল অভিযোগ ও প্রশ্নগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- বরাদ্দের হিসেব দাবি: নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে তড়িঘড়ি করে ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। সেখানে নিয়ম অনুযায়ী বুথ পিছু যে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করার কথা ছিল, সেই বিপুল অর্থ আসলে কোথায় গেল?
- কাউন্সিলরদের কৈফিয়ত: স্থানীয় স্তরের সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান না করে এই বরাদ্দ টাকা অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে কিনা, সেই বিষয়ে সরাসরি এলাকার কাউন্সিলরের কাছ থেকে প্রকাশ্য জবাব দাবি করেছে দলটির জেলা কমিটি।
- উন্নয়নের অভাব: পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, কাগজে-কলমে বড় বড় অঙ্কের হিসেব দেখানো হলেও বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ এলাকার কোনও সুরাহা বা প্রকৃত উন্নয়ন দেখতে পাননি।
বাঁকুড়া শহর জুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
এই পোস্টার রাজনীতি সামনে আসার পর থেকেই বাঁকুড়ার রাজনৈতিক অলিন্দে একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতে ছাড়ছে না কোনও পক্ষই। একদিকে যেমন বাম নেতৃত্ব এই ইস্যুকে পুঁজি করে আন্দোলন আরও জোরালো করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা জবাবের এই টানাপোড়েনের মাঝে, ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের আসল টাকা ঠিক কতটুকু খরচ হয়েছে, তা নিয়ে এখন সাধারণ আমজনতার মনেও জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।