১৯ জুন বিকেল ৫টা! সরাসরি দিল্লি থেকে মেল পাঠিয়ে অভিষেককে চূড়ান্ত সময় দিলেন স্পিকার ওম বিড়লা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা তীব্র ডামাডোল এবং সাংসদদের দলবদলের আবহে এবার সরাসরি দিল্লি থেকে মেল এল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতর থেকে পাঠানো ওই মেইলে অভিষেককে নিজের বক্তব্য জানানোর জন্য আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার বিকেল ৫টার এক সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দিল্লির এই তৎপরতাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে পারদ একধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গিয়েছে।

ইডির হাজিরা ও প্রথম দফার সময় মিস

এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছিলেন। তৃণমূলের তরফে সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং সাগরিকা ঘোষ স্পিকারের দফতরে গিয়ে এই সংক্রান্ত চিঠি জমা দিয়ে আসেন।

চিঠির প্রত্যুত্তরে স্পিকারের অফিস থেকে প্রথম দফায় সময় দেওয়া হলেও তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনের মূল কারণগুলি হলো:

  • স্বল্প সময়ের নোটিশ: গত ১৫ জুন দুপুর ২টোর সময় স্পিকারের অফিস থেকে অভিষেককে একটি ইমেল পাঠানো হয়, যেখানে ওই দিনই বিকেল ৪টের মধ্যে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
  • কলকাতায় ইডির জিজ্ঞাসাবাদ: মেইল যখন পৌঁছায়, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (ED) মুখোমুখি হচ্ছিলেন। জেরা চলাকালীন ফোন ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় তিনি সময়মতো মেইলের উত্তর দিতে পারেননি।
  • কীর্তি আজাদের আর্জি: পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কীর্তি আজাদ স্বয়ং স্পিকারের অফিসে গিয়ে জানান, অভিষেক কলকাতায় ইডি দপ্তরে হাজিরা দিচ্ছেন। এত কম সময়ের নোটিশে তাঁর পক্ষে দিল্লি আসা আসাম্ভব। তাই পরবর্তী কোনও তারিখে সময় দেওয়া হোক। সেই আর্জিতে সাড়া দিয়েই এবার ১৯ জুনের ডেডলাইন দেওয়া হলো।

দিল্লির দরবারে টানটান নাটক ও কাকলি শিবিরের চাল

গত রবিবার থেকেই দেশের রাজধানীতে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানটান নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের দল বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গোপন বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই আকস্মিক ২০ নম্বর আকবর রোডে স্পিকারের বাসভবনে হাজির হন অভিষেকপন্থী দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ। তাঁরা স্পিকারের হাতে অভিষেকের লেখা একটি জরুরি চিঠি তুলে দেন।

সেই চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট আবেদন জানিয়েছিলেন যে, বিক্ষুব্ধ বা অন্য কোনও তরফ থেকে লোকসভার স্পিকারের কাছে কোনও আবেদন জমা পড়লে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন অবশ্যই মূল দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর আইনি সুযোগ দেওয়া হয়।

sidewalk অন্যদিকে, বিদ্রোহী কাকলি শিবির ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাঁরা এনসিপিআই (NCPI) নামক নিবন্ধিত দলে যোগ দিচ্ছেন এবং সংসদে দাঁড়িয়ে সরাসরি এনডিএ (NDA) সরকারকে সমর্থন জানাবেন। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৯ জুন বিকেল ৫টায় স্পিকারের সামনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী সওয়াল পেশ করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে লোকসভায় তৃণমূলের রাশ কার হাতে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *