মাটি ও আমফান ত্রাণে সাড়ে ৫০০ কোটির কেলেঙ্কারি! অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের জোড়া FIR

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বস্তি ও আইনি জটিলতা একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল। এবার মোট সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার দুটি পৃথক দুর্নীতি ও চুরির মামলায় তাঁর এবং তাঁর আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর (FIR) দায়ের করল পুলিশ। এই হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে একই সাথে দুটি থানায় এফআইআর রুজু হওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তথা গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
মাটি চুরি ও আমফান ত্রাণের কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস তথা ববির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ এই জোড়া এফআইআর দায়ের করে জোরকদমে তদন্তে নেমেছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পিএ-র বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলি হলো:
- মাটি চুরির মারাত্মক অভিযোগ: ডায়মন্ড হারবার ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সরকারি ও বেসরকারি মাটি বেআইনিভাবে কেটে পাচার এবং চুরির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
- আমফান ত্রাণের অর্থ আত্মসাৎ: ২০২০ সালের বিধ্বংসী ‘আমফান’ ঘূর্ণিঝড়ের পর বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের সাহায্যের জন্য আসা সরকারি ত্রাণের তহবিল থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ব্যাপক আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি এবং সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
লিখিত অভিযোগকারী বিজেপি নেতা ববি এই দুর্নীতির খতিয়ান সামনে এনে অবিলম্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন। তাঁর সাফ বক্তব্য, এই বিশাল দুর্নীতির পেছনে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের অবিলম্বে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, গরিব মানুষের বিপর্যয়ের দিনে যারা ত্রাণের টাকা লুটে খেয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং ডাবল ইঞ্জিন সরকার এই ধরণের বড়সড় কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই জোড়া মামলার যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখে পরবর্তী কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।