চার মাসের সংঘাতের অবসান, আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তিতে খুলছে হরমুজ প্রণালী!

দীর্ঘ চার মাসের তীব্র সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার পর অবশেষে শান্তিচুক্তিতে সই করল আমেরিকা ও ইরান। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ডিজিটাল মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন। পরে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজের ফাঁকে চুক্তির হার্ড কপিতেও সই করেন ট্রাম্প। এই সমঝোতার মূল কারণ হলো চলমান সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় বিশ্ববাসীর জন্য উন্মুক্ত করা।
শর্ত ও অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাস
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আমেরিকা দ্রুত ইরানের ওপর থেকে তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। আগামী ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যে সময়ে কোনও দেশই উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেবে না বা পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে না। ইরানের মুখ্য আলোচক মহম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছেন, এই সমঝোতার ফলে ইরানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হলো। এই বিপুল অর্থ মূলত যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এলাকার পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক ও প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে কোনও আপস করেনি। দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশেই মজুত থাকবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও তেহরান তাদের অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে।
হরমুজ প্রণালী ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সাফল্য। তবে আগের মতো বিনা শর্তে নয়, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে ইরান এই জলপথ পরিচালনা করবে এবং ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফি আদায় করবে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখার অধিকার নিয়ে নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করলেও স্পষ্ট করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকবে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি যদি সফলভাবে কার্যকর হয়, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন যুগের সূচনা হবে।