নবান্ন থেকেও সরলেন জওয়ানরা, শান্ত বাংলায় একধাক্কায় বড় কমলো কেন্দ্রীয় বাহিনী!

নবান্ন থেকেও সরলেন জওয়ানরা, শান্ত বাংলায় একধাক্কায় বড় কমলো কেন্দ্রীয় বাহিনী!

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে একধাক্কায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হলো কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে যে বিপুল পরিমাণ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছিল, বর্তমানের শান্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নের নিরাপত্তা থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় জওয়ানদের।

৫০০ থেকে সরাসরি ১৫০ কো ম্পা নি

এবারের বিধানসভা নির্বাচন নির্বিঘ্নে ও রক্তপাতহীনভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্যে নজিরবিহীন নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। দুই দফায় মোট ২,৪০৭ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট প্রক্রিয়ার সুরক্ষায় নিয়োজিত ছিল। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরও সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। তবে নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যে বর্তমানে শান্তি বজায় থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ায় বাহিনীর সংখ্যা কমিয়ে এখন ১৫০ কো ম্পা নি করা হয়েছে।

নবান্নের কড়া নজরদারিতে ইতি

ফলাফল ঘোষণার দিন থেকেই নবান্নের নিরাপত্তার দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বা ফাইল যাতে কোনোভাবে লোপাট না হতে পারে, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এই কড়া নজরদারির নির্দেশ ছিল। এতদিন নবান্নে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় সরকারি কর্মচারীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা থেকে শুরু করে ব্যাগ তল্লাশির কাজ করতেন জওয়ানরাই। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার সকালের পর থেকে নবান্নের সামনে থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী কমানোর এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হলো ভোট-পরবর্তী সময়ে রাজ্যে বড় কোনো অশান্তি না হওয়া এবং সামগ্রিক পরিবেশ শান্ত থাকা। রাজ্য পুলিশের ওপর প্রশাসনের আস্থা বৃদ্ধি এবং পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার নীতিও এর অন্যতম কারণ। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার হবে, অন্যদিকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা আগের চেয়ে অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *