রাজনৈতিক স্বার্থে কি এক সংসারে দুই মেরু? সুদীপ-নয়না দ্বন্দ্বে এবার তীব্র কটাক্ষ তাপসের

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দলবদলের খেলা নতুন কিছু নয়, তবে একই ছাদের নিচে স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এবার রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল তোলপাড়। তৃণমূলের প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতা ও বর্তমান বিজেপি শিবিরের রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবার সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই টানাপোড়েনে তাপস রায়ের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
একই পরিবারে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের নেপথ্যে
সম্প্রতি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এনডিএ-কে সমর্থন জানিয়ে এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছিল যে, একজন গেলে অন্যজনও তাঁর পথ অনুসরণ করবেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে যখন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনড় অবস্থানে দেখা যাচ্ছে, তখন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর স্ত্রী মমতার আদর্শেই রাজনীতিতে এসেছেন এবং তাঁর সঙ্গেই আছেন।
ভয় নাকি ইচ্ছাকৃত কৌশল
এই বিপরীতমুখী অবস্থানকে একেবারেই স্বাভাবিকভাবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বিষয়টিকে তীব্র কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, হয় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর স্ত্রীর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ কোনোদিনই ছিল না, অথবা এটি তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর একটি ইচ্ছাকৃত সুদূরপ্রসারী কৌশল। তাপস রায়ের দাবি, উত্তর কলকাতার মানুষের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হারানোর ভয় থেকেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিভাজনের ফলে আগামী দিনে উত্তর কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ভোটারদের মনে একই পরিবারের দুই সদস্যের এই ভিন্ন অবস্থান বিভ্রান্তি তৈরি করবে নাকি রাজনৈতিকভাবে সুদীপ-নয়না জুটিকে সুরক্ষিত রাখবে, তা সময়ই বলে দেবে।