হাসিনার হাল হবে তারেকেরও? জুলাই সনদ ইস্যুতে রাজপথে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের হুঁশিয়ারি জামাতের

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। জাতীয় সংসদে এই ইস্যুর সম্মানজনক সমাধান না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। জনগণের বিপুল সমর্থন পাওয়া এই সনদ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দলটি।
সংবিধান সংস্কার বনাম সংশোধন
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোটের রায়কে কেন্দ্র করেই বর্তমান এই রাজনৈতিক জটিলতার সূত্রপাত। নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও, একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়। সংকট ঘনীভূত হয় ১৭ ফেব্রুয়ারির শপথ অনুষ্ঠানে। সেদিন বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ গ্রহণ করলেও, সরকারি দল বিএনপির সদস্যরা দ্বিতীয় শপথটি এড়িয়ে যান। এর প্রেক্ষিতে জামাত প্রধান শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, জনগণ সংবিধান ‘সংস্কারের’ পক্ষে রায় দিয়েছে, ‘সংশোধনের’ জন্য নয়। তাই সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য কোনো কমিটি গঠন করলে বিরোধী দল তাতে কোনো প্রতিনিধি পাঠাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতের মতো তারা সরকারের অনুগত বা আজ্ঞাবহ বিরোধী দল হবেন না, বরং জনস্বার্থে সংসদে এবং রাজপথে জোরালো ভূমিকা পালন করবেন।
দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের পথে জোট
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে নবগঠিত সরকারকে চাপে রাখতে এখন পুরোদমে রাজপথের দিকে এগোচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। সংসদে দাবি উত্থাপন, মুলতবি প্রস্তাব ও ওয়াকআউটের পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, সেমিনার এবং গণসংযোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা প্রস্তুত করেছে তারা। জোটের বাইরে ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ইতিমধ্যে আলাদাভাবে মাঠে নেমেছে। এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সদ্য গঠিত সরকার দ্রুত জুলাই সনদের বিষয়ে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের রাজনীতি আবারও চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এবং রাজপথে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হবে।