বিধানসভায় শুভেন্দু, কুণাল সাক্ষাৎ, চা চক্রের আবহে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ!

রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় ফের এক নাটকীয় মোড়। বিধানসভার অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী ৫ তৃণমূল বিধায়ক, যাদের মধ্যে অন্যতম হেভিওয়েট নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে এই সাক্ষাৎ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। বৈঠক শেষে কুণাল ঘোষ নিজেই জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের চা ও বিস্কুট খাইয়েছেন এবং অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের অন্দরে ও বিরোধী শিবিরকে খোঁচা
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকের পর বিধানসভা চত্বরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি আদর্শেই চলেন এবং কারও চাপে পড়ে বা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার বান্দা তাঁরা নন। নাম না করে বিরোধী দলনেতাকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আমরা চাটনচরিতকে মানি না, ব্যাকডোর দিয়ে ছুরি মারা বিরোধী দলনেতাকেও মানি না।” বিধানসভায় বক্তব্য রাখার জন্য বিরোধী দলনেতার কাছ থেকে সময় চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে সাফ জানিয়ে দেন কুণাল। নওশাদ সিদ্দিকী কিংবা বাম-কংগ্রেসের মতো তাঁরাও বিধানসভায় গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন এবং এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আলাদা ঘর ও পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রভাব ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের আইনসভায়। মমতাপন্থী বিধায়কদের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিধানসভার অন্দরে বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেদের জমি আরও শক্ত করতে চাইছেন তাঁরা। কুণাল ঘোষের কথায়, “আমরা তৃণমূল কংগ্রেস, আমরা বিরোধী দল। আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করব।” অর্থাৎ, সরকারের ভুলত্রুটির সমালোচনা করলেও তা হবে ইতিবাচক। একই সঙ্গে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হকার উচ্ছেদ ইস্যু নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই চা চক্র এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।