স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান ভারত: ১৫ দিনে ৫ লক্ষ ফর্ম জমার লক্ষ্যমাত্রা, আশাকর্মীদের ওপর কাজের চাপ নিয়ে বিতর্ক

স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান ভারত: ১৫ দিনে ৫ লক্ষ ফর্ম জমার লক্ষ্যমাত্রা, আশাকর্মীদের ওপর কাজের চাপ নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নির্দেশে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আশাকর্মীদের ওপর দৈনিক ৫০টি করে বাড়ি পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন উঠছে।

পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে খবর, এই বিশেষ কাজের জন্য ৫৮০ জন আশাকর্মীকে নিয়োজিত করা হয়েছে। নবান্ন থেকে নিয়মতিভাবে ‘প্রি-ফিল’ বা আগে থেকে নাম যুক্ত আবেদনপত্র পাঠানো হচ্ছে। মূলত কেন্দ্রের খাদ্যসুরক্ষা আইনের আওতায় রেশন কার্ডধারী উপভোক্তাদের এই ফর্মগুলি দেওয়া হচ্ছে। আশাকর্মীরা এই ফর্মগুলি বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিলি করছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রশিক্ষিত আশাকর্মীদের সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) শেষে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তবে এরপরের প্রক্রিয়া বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা আসেনি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নবান্ন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০০টি করে প্রি-ফিল ফর্ম পুরসভার দপ্তরে পৌঁছাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে আশাকর্মীদের প্রতিদিন অন্তত ৫০টি বাড়ি পরিদর্শনের টার্গেট দেওয়া হয়েছে। যদিও কর্মচাপের বাস্তবতায় সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হওয়ায়, অন্তত দিনে ৩০টি বাড়ি কভার করার জন্য আশাকর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পর্যাপ্ত সময় না থাকায় কাজ নিয়ে যেমন শঙ্কা রয়েছে, তেমনই কাজের স্বচ্ছতা ও পারিশ্রমিক নিয়েও ধোঁয়াশা কাটছে না। যদিও এই কাজের জন্য রাজ্য সরকার আশাকর্মীদের অতিরিক্ত সাম্মানিক দেওয়ার ঘোষণা করেছে, তবে সেই অর্থের পরিমাণ এবং তা কবে নাগাদ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশিকা এখনও হাতে পাননি কর্মীরা।

একদিকে কাজের পাহাড়, অন্যদিকে অস্পষ্ট নির্দেশিকা— সব মিলিয়ে সরকারি এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই কাজ নির্দিষ্ট নিয়মে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *