খাকি পোশাকে কয়লা পাচারের রমরমা কারবার, ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে গ্রেফতার বুদবুদের প্রাক্তন ওসি
রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা কয়লা পাচার মামলায় এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জালে ধরা পড়লেন এক প্রভাবশালী পুলিশ আধিকারিক। দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তারা। বৃহস্পতিবার সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর বয়ানে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি মেলায় গভীর রাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কয়লা মাফিয়াদের সেফ প্যাসেজ ও লাখ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বুদবুদ থানায় ওসির পদে থাকাকালীন মনোরঞ্জন মণ্ডলের বিরুদ্ধে কয়লা পাচার চক্রকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদত দেওয়ার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাচারকারীদের জন্য নিরাপদ রাস্তার ব্যবস্থা করে দিতেন। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে কয়লা সিন্ডিকেটের চাঁইদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং চক্রের অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী বা ‘মিডলম্যান’ হিসেবে কাজ করতেন। এই দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর পরই তাঁকে তড়িঘড়ি ওসির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তের প্রভাব ও প্রভাবশালীদের খোঁজে ইডি
এই গ্রেফতারির ফলে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এক নতুন মোড় এসেছে। গোয়েন্দাদের মতে, একজন থানার ওসির পক্ষে এককভাবে এত বড় সিন্ডিকেট চালানো আসাম্ভব। ফলে মনোরঞ্জন মণ্ডলের হাত ধরে কয়লা পাচারের লভ্যাংশ আর কোন কোন প্রভাবশালী মহলে বা উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে পৌঁছেছিল, এখন তা জানাই কেন্দ্রীয় এজেন্সির মূল লক্ষ্য। ধৃত প্রাক্তন ওসিকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে মরিয়া ইডি কর্তারা।