ভারতে হিন্দুরাই সংখ্যালঘু, বিস্ফোরক দাবিতে শোরগোল দেশজুড়ে

ভারতে জনবিন্যাস এবং মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক মহলের উদ্বেগের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য মৌলানা সাজ্জাদ নোমানি। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘোরার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে এই মুসলিম ধর্মগুরু দাবি করেছেন, হিন্দুরা আর ভারতের সংখ্যাগুরু জনসংখ্যা বলে নিজেদের দাবি করতে পারেন না। পবিত্র কাবা শরিফের হাজির-এ-আসওয়াদে হাত রেখে তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন, যা নিয়ে ইতিমিধ্যেই দেশজুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
জনবিন্যাসের নয়া সমীকরণ ও নোমানির যুক্তি
মৌলানা সাজ্জাদ নোমানির যুক্তি অনুযায়ী, হিন্দুদের মধ্যে একাধিক গোষ্ঠী এবং সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের আলাদাভাবে বিচার করলে মুসলিমদের জনসংখ্যাই হিন্দুদের চেয়ে বেশি হবে। তিনি জানান, শিখ বা বৌদ্ধদের অনেকে হিন্দুদের অংশ হিসেবে বিবেচনা করলেও তাঁরা আসলে হিন্দু নন। একই চিত্র তামিল, লিঙ্গায়েত এবং জাটদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা নিজেদের হিন্দু হিসেবে গণ্য করে না। এছাড়া তফসিলি জাতি ও উপজাতির একটি বড় অংশকেও হিন্দু পরিচয়ের বাইরে রেখেছেন তিনি।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের আশঙ্কা
এই বক্তব্যের পাশাপাশি হিন্দুদের রাজনৈতিক ও আদর্শগতভাবে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন নোমানি। তাঁর মতে, দেশে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ এবং ‘ফ্যাসিস্ট’—এই দুই ধারার হিন্দুই মুসলিমদের জন্য ক্ষতিকর। ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দুদের ওপর ভরসা করার কারণেই দেশ আজ ফ্যাসিস্টদের হাতে চলে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনবিন্যাস বদল সংক্রান্ত উদ্বেগের আবহে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের নেতার এমন হিসাব ও মন্তব্য দেশের ধর্মীয় এবং সামাজিক মেরুকরণকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই বিস্ফোরক দাবির ফলে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে জনসংখ্যা ও জনবিন্যাস সংক্রান্ত বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।