সবুজ লোগো এবার হবে রঙিন, মাত্র ৭৯ টাকায় ভারতে হাজির ‘WhatsApp Plus’!

সবুজ লোগো এবার হবে রঙিন, মাত্র ৭৯ টাকায় ভারতে হাজির ‘WhatsApp Plus’!

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে এবার একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। প্যারেন্ট সংস্থা মেটা তাদের বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালু করার অংশ হিসেবে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে এসেছে ‘WhatsApp Plus’। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস— দুই ধরনের গ্রাহকদের জন্যই এই সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক সেবাটি চালু করা হয়েছে, যার মাসিক খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৭৯ টাকা। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, কারণ মূল মেসেজিং বা কলিংয়ের মতো জরুরি ফিচারগুলো আগের মতোই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। মূলত অ্যাপের অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয়, সুশৃঙ্খল ও ব্যক্তিগত করে তুলতেই এই প্রিমিয়াম কাস্টমাইজেশন প্যাকটি আনা হয়েছে।

ফিচারের নতুন চমক ও কাস্টমাইজেশন সুবিধা

যাঁরা নিজেদের চ্যাট অ্যাপটিকে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে সাজাতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য মেটা একগুচ্ছ আকর্ষণীয় ফিচার যুক্ত করেছে এই সংস্করণে। এর মধ্যে রয়েছে ভাইব্রেন্ট ব্লু, রয়্যাল পার্পল, ফরেস্ট গ্রিনসহ ১৮টি নতুন কালার থিম এবং ১৪টি ভিন্ন ডিজাইনের অ্যাপ আইকন, যার মাধ্যমে হোম স্ক্রিনের চেনা সবুজ লোগোটি বদলে ফেলা সম্ভব। এ ছাড়া কল বা মেসেজ টোনে নতুনত্ব আনতে থাকছে ১০টি এক্সক্লুসিভ রিংটোন। পেশাদার ও জরুরি কাজের সুবিধার্থে সাধারণ সংস্করণের ৩টি চ্যাট পিনের সীমাবদ্ধতা ভেঙে প্লাস গ্রাহকরা একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২০টি চ্যাট পিন করে রাখতে পারবেন। পাশাপাশি থাকছে কাস্টমাইজড চ্যাট লিস্ট তৈরি ও বিশেষ প্রিমিয়াম স্টিকার প্যাক ব্যবহারের সুবিধা। প্রথম মাসে এই সেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ট্রায়াল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ৭৯ টাকা করে কাটা হবে। ব্যবহারকারীরা অ্যাপের সেটিংস থেকে সাবস্ক্রিপশন অপশনে গিয়ে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে সহজেই এটি সক্রিয় করতে পারবেন।

বাণিজ্যিক কৌশল ও ব্যবহারকারীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে বিজ্ঞাপনের বাইরেও রাজস্ব আয়ের নতুন ও স্থায়ী উৎস তৈরি করা। বিশ্বব্যাপী প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন মডেলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণেই মেটা তাদের মেগা প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে এই বাণিজ্যিক কৌশল প্রয়োগ করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর কোনো আর্থিক চাপ পড়বে না, কারণ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনযুক্ত ব্যক্তিগত চ্যাট, ভয়েস ও ভিডিও কল এবং স্ট্যাটাস আপডেটের মতো মৌলিক সুবিধাগুলো অপরিবর্তিত থাকছে। তবে এই ফিচারের সম্ভাব্য প্রভাব পড়বে মূলত পেশাদার এবং অতিরিক্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ওপর। একসঙ্গে ২০টি চ্যাট পিন করার সুবিধা এবং কাস্টমাইজড চ্যাট লিস্টের কারণে ব্যবসায়ী ও কর্মব্যস্ত মানুষেরা তাঁদের চ্যাট ও গ্রাহকদের আরও সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, যা তাঁদের কাজের গতি বাড়াতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *