আইটি শেয়ারে নজিরবিহীন বিপর্যয়, একদিনেই উধাও ১.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা!

আইটি শেয়ারে নজিরবিহীন বিপর্যয়, একদিনেই উধাও ১.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা!

শুক্রবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাত। মাত্র এক দিনের লেনদেনে শীর্ষস্থানীয় আইটি সংস্থাগুলির বাজার মূলধন থেকে প্রায় ১.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা হাওয়া হয়ে গেছে। এই ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইনফোসিস, টাটা কন্সাল্টেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), এইচসিএল টেক, উইপ্রো এবং টেক মহিন্দ্রার মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলো। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক পতনের নেপথ্যে বৈশ্বিক বাজারের একাধিক নেতিবাচক সংকেত যৌথভাবে কাজ করেছে।

ধসের মূল কারণ ও বৈশ্বিক প্রভাব

এই ধসের প্রধান সূত্রপাত ঘটেছে মার্কিন প্রযুক্তি পরিষেবা জায়ান্ট ‘অ্যাক্সেঞ্চার’-এর একটি সতর্কবার্তাকে কেন্দ্র করে। সংস্থাটি তাদের ভবিষ্যৎ আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির আয়ের সিংহভাগ আসে আমেরিকা ও ইউরোপের বাজার থেকে, তাই অ্যাক্সেঞ্চারের এই নেতিবাচক বার্তা বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কিত করে তুলেছে। কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রযুক্তি খাতে খরচ কমানো এবং নতুন প্রকল্পে ধীরগতির সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি ভারতীয় বাজারের ওপর পড়েছে। এর পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর দ্রুত উত্থানও এই শিল্পে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কম কর্মী ও কম খরচে কাজ সারতে AI-এর ব্যবহার বাড়ায় প্রচলিত আইটি পরিষেবার চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ক্ষতির খতিয়ান ও আগামী দিনের সংকেত

এদিনের বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইনফোসিস। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সংস্থাটির শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায় এবং প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকার বাজারমূল্য উধাও হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অ্যাক্সেঞ্চারের বার্তা নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি, সাম্প্রতিক বাজার র্যালির পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েকটি ত্রৈমাসিকে ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির আয় বৃদ্ধির গতি বেশ চাপের মুখে থাকবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ক্লাউড কম্পিউটিং এবং AI-ভিত্তিক সমাধানের চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আপাতত বিনিয়োগকারীরা সংস্থাগুলির আগামী প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল ও নতুন অর্ডারের দিকে গভীর নজর রাখছেন। শুক্রবারের এই পতন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বৈশ্বিক আইটি শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ অত্যন্ত জোরালো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *