সামান্য কুলি থেকে কোটিপতি! আমেদাবাদে রেলকর্মীর বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

আমেদাবাদ রেলস্টেশনে কুলি হিসেবে কাজ করা এক ব্যক্তির নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আয়ের বৈধ উৎসের তুলনায় বহু গুণ বেশি সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগে প্রশান্ত বালদেভভাই রাবারি নামের ওই রেলকর্মীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই তাঁর প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে।
দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন
গুজরাত পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআরের ভিত্তিতে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) অধীনে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে ইডি। তদন্তে উঠে আসে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রশান্ত অবৈধ উপায়ে প্রায় ২.৫৮ কোটি টাকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। সামান্য কুলির কাজ করলেও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে তিনি নিজের পাশাপাশি স্ত্রী আমুলবেন প্রশান্তভাই রাবারির নামেও একাধিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কিনেছিলেন। আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির নথিপত্র খতিয়ে দেখে ইডি এই অবৈধ বিনিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার জেরে রেলস্টেশনের মতো জায়গায় সাধারণ কর্মীদের আড়ালে চলা বড়সড় দুর্নীতির চক্র প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ইডির এই পদক্ষেপের ফলে অভিযুক্তের সম্পত্তি আপাতত বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। একজন সাধারণ কুলির এত বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়ার ঘটনা প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির গভীরতা নিয়ে গুরুতর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা বিনিয়োগের নেপথ্যে কোনো বড় আর্থিক নেটওয়ার্ক বা মধ্যস্থতাকারী জড়িত থাকতে পারে। বর্তমানে সেই উৎস সন্ধানেই নিবিড় তদন্ত চলছে এবং আগামী দিনে এই দুর্নীতি চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও অনেক নাম ও বেআইনি সম্পত্তির খোঁজ মেলার সম্ভাবনা রয়েছে।