কয়লা পাচার ও হাওয়ালা যোগে ইডির জালে প্রাক্তন ওসি! পকেটে ৭ কোটি টাকা

কয়লা পাচারকাণ্ডে বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে গ্রেফতার হলেন প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খাঁ-র সঙ্গে যোগসাজশ রেখে কয়লা পাচারকারীদের মদত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সিন্ডিকেট ও বিপুল সম্পত্তির হদিস
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের পদের অপব্যবহার করে মনোরঞ্জন মণ্ডল প্রায় ৭ কোটি টাকা বেআইনিভাবে উপার্জন করেছেন। কয়লা পাচারে রীতিমতো সিন্ডিকেট চালাতেন তিনি এবং পাচার নির্বিঘ্নে করার জন্য নিয়মিত ‘প্রোটেকশন মানি’ বা ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ নিতেন। তাঁর বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ এবং ২৫ লক্ষ টাকা জমা পড়ার প্রমাণ মিলেছে। এমনকি, চিন্ময় মণ্ডলের কাছ থেকে সরকারি টেন্ডারের ১৫ শতাংশ বেআইনি কমিশন দাবি করার পাশাপাশি, সেই টাকা স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো ও ফ্ল্যাট বুক করার নির্দেশও দিয়েছিলেন এই প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক।
হাওয়ালা যোগ ও ইডির পদক্ষেপ
কয়লা পাচারের পাশাপাশি হাওয়ালা কারবারের সঙ্গেও তাঁর পরোক্ষ যোগ মিলেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দিল্লিতে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। উদ্ধার হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে একাধিক পাচারকারীর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। বারবার সমন এড়িয়ে যাওয়ার কারণে ইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও নিবিড়ভাবে জেরা করতে চাইছে এবং আদালতে ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে, ধৃতের আইনজীবী পদের অপব্যবহারের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জামিনের আবেদন করেছেন এবং তা মঞ্জুর না হলে জেলে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন দুর্নীতি ও হাওয়ালা যোগের প্রমাণ সামনে আসায় পুলিশ ও অপরাধীদের অশুভ আঁতাত আরও একবার প্রকট হলো। এই ঘটনার জেরে পুলিশি ব্যবস্থার একাংশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, পাশাপাশি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আগামী দিনে আরও বড় কোনও মাথা কেন্দ্রীয় এজেন্সির জালে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।