ইজরায়েল ও হেজবোল্লার ঐতিহাসিক সংঘর্ষবিরতি, চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে আমেরিকা ও ইরান শান্তিচুক্তি!

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অশান্ত সামরিক আবহে অবশেষে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটল ইজরায়েল এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটে থেকে এই সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দিনকয়েক আগে স্বাক্ষরিত হওয়া আমেরিকা-ইরান প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক বা মউ চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
রক্তক্ষয়ী হামলার পর সমঝোতার সূত্রপাত
এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত আসার ঠিক আগেই অবশ্য শুক্রবার সকালে দক্ষিণ লেবাননের একাধিক ঠিকানায় তীব্র হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনা, যেখানে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়। তবে এই সংঘাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই পক্ষ যুদ্ধ থামাতে সম্মত হয়। মূলত আমেরিকা ও কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি ইরানের বিশেষ ভূমিকা এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সাহায্য করেছে। দিনকয়েক আগে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি ফেরাতে যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত এলাকা থেকে সামরিক কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ করা। তেহরানের পক্ষ থেকে হেজবোল্লাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি না হলে আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দূরগামী প্রভাব
এই সংঘর্ষবিরতি শুধু ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তের উত্তেজনা কমাবে না, বরং সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ইজরায়েল-হেজবোল্লা সংঘাতের জেরে সুইৎজারল্যান্ডে দুই দেশের নির্ধারিত বৈঠক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন, তবে নতুন এই পরিস্থিতির পর দুই দেশের মধ্যে পুনরায় দ্রুত আলোচনার দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সংঘর্ষবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।