রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামলেও আটকানো যাচ্ছে না প্রশ্ন ফাঁস, কেন্দ্রকে নিশানা করে এবার সুর চড়াল আরশোলা জনতা পার্টি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামলেও আটকানো যাচ্ছে না প্রশ্ন ফাঁস, কেন্দ্রকে নিশানা করে এবার সুর চড়াল আরশোলা জনতা পার্টি

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আরশোলা জনতা পার্টি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ তিপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁকে বরখাস্ত করতে হবে। এই দাবিতে অনড় থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েকশো যুবক-যুবতীকে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর, এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিপকে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তর্জাতিক স্তরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মতো দেশের যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন, তবে দেশের অভ্যন্তরে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়ানো প্রশ্নপত্র ফাঁস কেন আটকাতে পারছেন না? মূলত এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই যুবসমাজকে সংগঠিত করছে দলটি।

তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে নামায় শাসকদল বিজেপির একাংশ এবং আইটি সেলের পক্ষ থেকে তিপকে-র যোগ্যতা ও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এমনকি তিনি বিদেশে বসে ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে সিজেপি প্রধান বলেন, দেশের যুবসমাজের অধিকারের কথা বললেই ‘পাকিস্তানি’ তকমা দেওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি সাফ জানান, কোনো রাজনৈতিক দলের মদতে নয়, বরং স্বাধীনভাবেই যুবকদের স্বার্থে তাঁদের এই লড়াই চলবে।

আপাতত আমেরিকায় ফেরার পরিকল্পনা বাতিল করে ভারতেই স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিপকে। গ্রামীণ ও শহরের যুবকদের কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারকে মূল লক্ষ্য করে এই আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর থেকে কোনো প্রত্যক্ষ সাহায্য না নিলেও, যুবকদের স্বার্থে যে কোনো দলের নীতিগত সমর্থনকে তাঁরা স্বাগত জানাবেন বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই অচলাবস্থা ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কেন্দ্র সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই রাজনৈতিক চাপ বজায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *