সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়, ফুটপাতে হাঁটা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার!

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট ফুটপাত দিয়ে হাঁটা নাগরিকদের একটি মৌলিক অধিকার। বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি এ এস চান্দুরকারের বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, রাস্তায় মোটরযান চলাচলের চেয়ে পথচারীদের হাঁটার অধিকার অনেক বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। আদালত জানিয়েছে, এই অধিকার সংবিধানের ১৯(১)(ডি) অনুচ্ছেদে নিশ্চিত অবাধ চলাচলের স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে যুগান্তকারী রায়
এই রায়ের নেপথ্যে রয়েছে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার মামলা। বাবার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার সময় পাঁচ বছরের এক শিশুকে পেছন থেকে পিষে মারে একটি ট্যাঙ্কার লরি। দুর্ঘটনাস্থলে কোনও ফুটপাত বা পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা না থাকাতেই এই করুণ পরিণতি হয়। এই মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট শিশুটির পরিবারকে দুই মাসের মধ্যে ১১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬২৮ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে আদালত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, রাস্তা থাকলে পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট ফুটপাত তৈরি ও তার রক্ষণাবেক্ষণ করা কর্তৃপক্ষের আইনত বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
শহর পরিকল্পনায় বদলের ইঙ্গিত ও প্রভাব
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সুদূরপ্রসারী আইনি ও পরিকাঠামোগত প্রভাব রয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, নিরাপদ ফুটপাতের অভাবে হাঁটার অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি সাংবিধানিক ও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন। এই অধিকার আদায় মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্টের অধীনস্থ ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। ভারতের শহরগুলোতে গাড়িকেন্দ্রিক নগরোন্নয়নের সমালোচনা করে আদালত জানিয়েছে, চাকা আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলের অধিকার রয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় যান্ত্রিক যানবাহনের চেয়ে পথচারীদের জন্য নিরাপদ ফুটপাত ও পরিকাঠামো নির্মাণকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।