স্কুলের পাঠ্যক্রমে এবার ‘হিন্দু নিধনে’র ইতিহাস যুক্ত করার বড় আর্জি মন্ত্রী তাপস রায়ের!

সরকারি উদ্যোগে প্রথমবার পালিত হলো পশ্চিমবঙ্গ দিবস। আর এই বিশেষ দিনেই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিয়ে স্কুলের পাঠ্যসূচিতে ‘হিন্দু নিধনে’র ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানালেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের কাছে এই আর্জি জানিয়ে তিনি দাবি করেন, নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের বাংলার সেই বিস্মৃত এবং রক্তাক্ত ইতিহাস জানানো অত্যন্ত প্রয়োজন। এই দাবিতে তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী শংকর ঘোষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও।
সিলেবাসে রক্তাক্ত অধ্যায় যুক্ত করার পক্ষে সওয়াল
বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় অভিযোগ করেন, অতীতে সুরাবর্দির নির্দেশে কলকাতার রাস্তায় ১০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ঢাকা ও নোয়াখালিতে হিন্দু নিধন চলেছিল। এই ঐতিহাসিক সত্যটি বর্তমানের পাঠ্যবইগুলোতে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। তাই নতুন সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার অংশ হিসেবে এই বিস্মৃত অধ্যায়টি দ্রুত স্কুলের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি স্পিকারের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে স্বীকৃতির দাবি
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার পশ্চিমবঙ্গ গঠনে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে বাঙালিরা আজ নিজেদের রাজ্যে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারতেন না, বরং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বাস্তু হিসেবে জীবন কাটাতে হতো। এই মহান নেতার অবদানকে বর্তমান পাঠ্যসূচি থেকে মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের পাঠ্যবইয়ে অন্তত একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নির্মাণ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার জন্য বরাদ্দ করা উচিত।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তই মূলত এই নতুন দাবির পটভূমি তৈরি করেছে। এই প্রস্তাব যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে তা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনবে। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেমন পশ্চিমবঙ্গের জন্মলগ্নের প্রকৃত সংগ্রাম ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে পারবে, তেমনই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পাঠ্যবইয়ের আধেয় নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হতে পারে।