শীঘ্রই বাড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, কেন?

শীঘ্রই বাড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, কেন?

নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে দেশে হু হু করে বেড়েছিল জ্বালানির দাম। পেট্রোল-ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১০ টাকা বৃদ্ধির পাশাপাশি মহার্ঘ হয়েছিল রান্নার গ্যাসও (LPG)। তবে সম্প্রতি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। অনেকেই আশা করেছিলেন, এবার হয়তো মুদ্রাস্ফীতির পারদ নিম্নমুখী হবে এবং আমজনতা স্বস্তি পাবে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা শোনাচ্ছেন অন্য কথা। তাঁদের মতে, তেলের দাম কমলেও দুর্বল বর্ষার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম শীঘ্রই আকাশছোঁয়া হতে চলেছে।

কেন এই নতুন আশঙ্কা?

কয়েক সপ্তাহ আগেও মুদ্রাস্ফীতির মূল খলনায়ক মনে করা হচ্ছিল অপরিশোধিত তেলকে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। ইনফোমেরিকস রেটিংস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ডঃ মনোরঞ্জন শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তেল নয়, বরং ‘দুর্বল বর্ষা’। এর পেছনে মূল কারণগুলি হলো:

  • অত্যধিক কৃষিনির্ভরতা: ভারতের প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি সেচের জন্য সরাসরি বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভরশীল।
  • উৎপাদনে ঘাটতি: পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে চাল, ডাল, শাকসবজি, ফল এবং তৈলবীজের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  • সরাসরি প্রভাব: তেলের দাম বাড়লে প্রথমে পরিবহন খরচ বাড়ে, যার পরোক্ষ প্রভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কিন্তু বৃষ্টিপাত কম হলে সরাসরি সবজি বাজার এবং মুদি দোকানের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম হুড়মুড়িয়ে বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের হেঁশেলের বাজেটকে সরাসরি ধাক্কা দেয়।

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান

খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানেও ইতিমধ্যে উদ্বেগের ছবি ধরা পড়েছে:

  • খুচরো মুদ্রাস্ফীতি: গত এপ্রিলে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৩.৪৮%, যা মে মাসে বেড়ে ৩.৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
  • পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি: মে মাসে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি একলাফে ৯.৬৮%-এ পৌঁছেছে।
  • RBI-এর পূর্বাভাস: বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান খরচের কথা মাথায় রেখে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৪.৬% থেকে বাড়িয়ে ৫.১% করেছে।

সব মিলিয়ে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও, দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন সরকারের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে আগামী দিনগুলোতে সাধারণ মানুষকে আরও চরম মূল্যবৃদ্ধির সম্মুখীন হতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *