সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ অতীত, কলকাতায় এবার ‘গোপাল মুখার্জি রোড’! ক্ষমতায় এসেই বড় চমক

সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ অতীত, কলকাতায় এবার ‘গোপাল মুখার্জি রোড’! ক্ষমতায় এসেই বড় চমক

কলকাতা: শহরের বুকে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক নামবদল! পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে কসাইপাড়া লেন পর্যন্ত বিস্তৃত ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হল ‘গোপাল মুখার্জি রোড’। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে কলকাতা পুরসভার নেওয়া এই সিদ্ধান্তে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।

রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুরসভাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ পোস্টে তিনি লেখেন, “এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে এমন এক ব্যক্তির নাম বহন করা হয়েছে, যাঁর ভূমিকা বিভাজন ও রক্তক্ষয়ের সঙ্গে জড়িত। আজ সেই ভুল শুধরে রক্ষক ও সাহসের প্রতীক শ্রী গোপাল মুখার্জিকে যথাযোগ্য সম্মান জানানো হলো। এখন সময় পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত নায়কদের স্মরণ করার।”

কে এই গোপাল মুখার্জি? (ইতিহাসের পাতা থেকে এক চমকে ওঠা চরিত্র)

কলকাতার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে! তাঁর সম্পর্কে কয়েকটি অজানা তথ্য:

  • প্রাথমিক জীবন ও পরিচয়: ১৯১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বৌবাজারের মলঙ্গা লেনে তাঁর জন্ম। তাঁর কাকা ছিলেন বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবী অনুকূলচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। কলেজ স্ট্রিটে গোপালের একটি মাংসের দোকান ছিল। মাংস ব্যবসার পাশাপাশি তিনি কুস্তি লড়তেও খুব ভালোবাসতেন।
  • ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও প্রতিরোধ: ১৯৪৬ সালে কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গার সময় মুসলিম লিগের সশস্ত্র বিক্ষোভের হাত থেকে সাধারণ হিন্দুদের রক্ষা করতে তিনি কার্যত ঢাল হয়ে দাঁড়ান। গড়ে তোলেন ‘ভারত জাতীয় বাহিনী’ নামের একটি সশস্ত্র প্রতিরোধ দল।
  • অস্ত্র সংগ্রহ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে ১৯৪৫ সালে কলকাতায় থাকা মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে তিনি ও তাঁর দল বেশ কিছু রিভলভার, .৪৫ বোরের পিস্তল এবং গ্রেনেড জোগাড় করেছিলেন, যা পরবর্তীতে দাঙ্গা রুখতে কাজে আসে।
  • আদর্শ ও মতবিরোধ: তিনি গভীরভাবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। তবে মহাত্মা গান্ধীর মতাদর্শের সঙ্গে তাঁর প্রবল মতবিরোধ ছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

জীবনের শেষভাগে সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন গোপাল মুখার্জি। দুঃস্থদের সাহায্যার্থে তিনি ‘ন্যাশনাল রিলিফ সেন্টার’ তৈরি করেন। ২০০৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বৌবাজারে নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইতিহাসের এই বিতর্কিত অথচ প্রভাবশালী নায়ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *