শিক্ষায় নয়া পালক, বীরভূমে ‘পিএমশ্রী’ মডেল স্কুলের তালিকায় ২৭৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান!

জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বীরভূম জেলায় জোরকদমে শুরু হয়েছে ‘পিএমশ্রী’ (প্রধানমন্ত্রী স্কুল ফর রাইজিং ইন্ডিয়া) প্রকল্প চালুর প্রক্রিয়া। জেলার ১৯টি ব্লকে মোট ২৭৮টি সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়কে প্রাথমিক বাছাইপর্বের তালিকায় রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিদর্শন ও সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। রাজ্য সরকারের সুপারিশের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই এই বিদ্যালয়গুলির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
পরিকাঠামোর ভোলবদল ও আর্থিক অনুদান
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ ও মফস্বলের স্কুলগুলিকে আধুনিক পরিকাঠামো ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে আদর্শ মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বাকি ৪০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে একেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য সর্বোচ্চ আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে। এই বিপুল অর্থে বিদ্যালয়গুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাবরেটরি, উন্নতমানের লাইব্রেরি, খেলার মাঠ এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মতো উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন দিগন্ত
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূর্বতন সরকারের আমলে এই প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য মতবিরোধ ও নানাবিধ জটিলতা থাকলেও, বর্তমানে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই অচলাবস্থা কেটেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের নতুন উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হয়েছে। জেলার ১৯টি ব্লকের প্রতিটিতে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি প্রাথমিক এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে এই মডেল রূপান্তরের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে। বীরভূমের মোট ৬১২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ২৭৮টি স্কুল বাছাইপর্বে রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০টি বিদ্যালয় প্রথম দফায় উন্নীত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের এই মহাপরিকল্পনায় নানুর ও লাভপুরসহ বিভিন্ন ব্লকের একাধিক নামী উচ্চ বিদ্যালয় এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য ইতিমধ্যেই পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে।