রাজ্য বাজেটে ৪২% ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বিরাট সুখবর!

আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শপথ গ্রহণের মাত্র ১১ দিনের মাথায় সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সবুজ সংকেত দিয়েছিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। এবার সেই সুর ধরেই আজকের বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং বেতন কমিশন নিয়ে ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত ঘোষণার প্রহর গুনছেন লক্ষাধিক কর্মী ও তাঁদের পরিবার।
প্রত্যাশার কেন্দ্রে ডিএ সমতা ও পে কমিশন
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-এর বিপুল ফারাক। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পেলেও, রাজ্যের কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। এই ৪২ শতাংশের বিশাল ব্যবধান ঘোচাতে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি কর্মী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাজেটে বিশেষ সুখবরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের মতো সংগঠনগুলি বকেয়া ডিএ মেটানোর স্পষ্ট রোডম্যাপ বা সম্পূর্ণ ৪২ শতাংশ ডিএ একসঙ্গে ঘোষণার দাবি জানাচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও আর্থিক রূপরেখা
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তম বেতন কমিশনে নতুন বেতন কাঠামো চালু করার পূর্বশর্ত হলো কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে সমতা নিয়ে আসা। তাই বকেয়া ৪২ শতাংশ ডিএ মেটানো এবং নতুন বেতন কমিশন গঠন সম্পূর্ণভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। আজকের বাজেটে এই দুই বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা হলে তা কেবল লক্ষাধিক রাজ্য সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের দীর্ঘদিনের আর্থিক বঞ্চনার অবসান ঘটাবে না, বরং তাঁদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা অনেকটাই সুনিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে মূল্যসূচক (AICPI) অনুযায়ী ডিএ দেওয়ার সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রকাশ পেলে তা কর্মীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে রাজ্যের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।