নাথু লা পেরিয়ে চিনে প্রবেশ করল পুণ্যার্থীদের প্রথম দল, শুরু হল ঐতিহ্যবাহী কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের পবিত্র কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শনিবার সিকিমের ঐতিহাসিক নাথু লা পাস দিয়ে ৪৪ জন পুণ্যার্থীর প্রথম দলটি ভারত-চিন সীমান্ত অতিক্রম করে চিনে প্রবেশ করেছে। সিকিমের রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুর পতাকা নেড়ে এই পুণ্যযাত্রার শুভ সূচনা করেন। প্রথম দলের এই সীমান্ত পারাপারের মধ্য দিয়ে দেবভূমি কৈলাসের উদ্দেশে মূল যাত্রাপথের সূচনা ঘটল, যা দেশের পুণ্যার্থীদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
চলতি বছরের প্রথম এই দলে দেশের ১২টি রাজ্য থেকে আসা ৩২ জন পুরুষ এবং ১২ জন মহিলা পুণ্যার্থী রয়েছেন, যাদের বয়স ৩০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। পুণ্যার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য দলে চারজন লিয়াজোঁ অফিসার এবং একজন অভিজ্ঞ মেডিক্যাল অফিসার যুক্ত রয়েছেন। যাত্রার প্রাক্কালে সিকিমের মুখ্যসচিব আর তেলাং আবাসন, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সহ প্রতিটি প্রস্তুতি কঠোরভাবে খতিয়ে দেখেন। চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সকল পুণ্যার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার পরই এই দুর্গম যাত্রার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।
বহুমাত্রিক গুরুত্ব ও কূটনৈতিক সমন্বয়
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস এবং সিকিমের নাথু লা পাস—এই দুটি ভিন্ন ও দুর্গম পথে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার আয়োজন করে থাকে। এই যাত্রার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনই এটি ভারত ও চিনের পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অত্যন্ত সুউচ্চ এবং ভৌগোলিক প্রতিকূলতায় ভরা এই অঞ্চল দিয়ে সীমান্ত পারাপার এবং পুণ্যার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার আবহকে তুলে ধরে।
আধ্যাত্মিক চেতনা ও জনমানসে প্রভাব
হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী কৈলাস পর্বত দেবতাদেব মহাদেব শিবের পবিত্র বাসস্থান, যার ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই স্থান পরম আস্থার প্রতীক। শুধু হিন্দুরাই নন, বরং জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষের কাছেও এই তীর্থক্ষেত্রের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অনন্য। এই মহতী যাত্রা দেশজুড়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও একাত্মতার বার্তা বহন করে। সফলভাবে যাত্রা শুরু হওয়ায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে চরম উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে এবং এর সফল সমাপ্তি দেশের পর্যটন ক্ষেত্র ও সীমান্ত অবকাঠামোর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।