ডবল ইঞ্জিন বাজেটে সরকারি কর্মীদের বিরাট সুখবর, পুজোয় মিলবে ৩৮ শতাংশ মহার্ঘভাতা!

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় উপহার দিল নতুন সরকার। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ (DA) সংক্রান্ত অসন্তোষ দূর করতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় তিনি জানান, রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ মঞ্জুর করা হচ্ছে। এর ফলে কর্মচারীদের মোট মহার্ঘভাতার পরিমাণ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ৩৮ শতাংশে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে, যার আর্থিক সুবিধা কর্মচারীরা পাবেন নভেম্বর মাসের শুরুতেই। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে এমন ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া সরকারি মহলে।
দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বৈষম্য হ্রাসের উদ্যোগ
বিগত সরকারের আমলে মহার্ঘভাতা নিয়ে রাজ্য ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও লাগাতার আন্দোলন চলেছিল। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যেখানে বর্তমানে ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে রাজ্যের কর্মীরা পাচ্ছিলেন মাত্র ১৮ শতাংশ। এই ৪২ শতাংশের বিশাল ফারাক নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পূর্বতন সরকার ধাপে ধাপে ডিএ বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করলেও কেন্দ্রের সমান হারের দাবি পূরণ হয়নি। রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর পেশ হওয়া এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সেই ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হলো। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবির আইনি ও সামাজিক চাপ মেটানো এবং প্রশাসনের কাজের গতি সচল রাখাই এই বড় সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও পেনশনারদের ধোঁয়াশা
উৎসবের ঠিক মুখে এই বর্ধিত মহার্ঘভাতা কার্যকর হওয়ায় বাজার অর্থনীতিতে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের হাতে বাড়তি অর্থ আসায় পুজোর মরশুমে কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেন বৃদ্ধি পাবে, যা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে। তবে এই সিদ্ধান্তের সুফল সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারী এবং বিভাগীয় কর্মীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীরাও পাবেন বলে জানানো হলেও, পেনশনারদের বকেয়া ডিএ প্রাপ্তির নির্দিষ্ট হার এবং সময়সীমা নিয়ে বাজেটে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় পেনশনভোগীদের বিষয়টি খুব স্পষ্ট করা না হলেও, সামগ্রিকভাবে কেন্দ্রীয় হারের কাছাকাছি পৌঁছানোর এই পদক্ষেপে রাজ্য জুড়ে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত হবে।