দেড় হাজার নয় এবার মাসে মিলবে ৩ হাজার টাকা, বেকারদের জন্য বাজেটে বিরাট চমক রাজ্যের!

প্রথম বাজেটেই বড় চমক দিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় ‘ভরসা’ নামের একটি নতুন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য ভাতার পরিমাণ এক লাফে দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের চালু করা ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের পরিবর্তে আসা এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এখন থেকে স্নাতক পাশ বেকাররা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
কারা পাবেন এই সুবিধা
নতুন এই ‘ভরসা’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে সরকার কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী বেকার যুবকরাই কেবল এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। পাশাপাশি, আবেদনকারী যদি আগে থেকেই সরকারের অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন, তবে তিনি এই ভাতার আওতাভুক্ত হতে পারবেন না। স্নাতক উত্তীর্ণরা মাসে ৩ হাজার টাকা পেলেও, শিক্ষাগত যোগ্যতা এর চেয়ে কম হলে প্রতি মাসে মিলবে ২ হাজার টাকা। আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হতে যাচ্ছে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বহুমুখী উদ্যোগের প্রভাব
বেকার ভাতার পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা ও ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নেও বাজেটে বড়সড় বরাদ্দ ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। সরকারি ও সরকারি পোষিত কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে থ্রি-ডি অ্যানিমেশন কোর্সের সূচনা এবং একটি আধুনিক স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।
আঞ্চলিক শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরে ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় দুটি নতুন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং রাজ্যে আদর্শ বিদ্যালয় গড়ার লক্ষ্যে ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সাথে সংস্কৃত কলেজ ও সংস্কৃত ভাষার প্রসারে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নতুন সরকারের এই বাজেট প্রস্তাব একদিকে যেমন বেকার যুবকদের তাৎক্ষণিক আর্থিক সুরক্ষা দেবে, অন্যদিকে শিক্ষা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যে কর্মসংস্থানের হার বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।