দীঘা-দার্জিলিঙে স্পেশাল ট্রমা সেন্টার! শুভেন্দু সরকারের বাজেটে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় চমক

কলকাতা: পাহাড় বা সমুদ্র—বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে পর্যটকদের মানসিক ধাক্কা বা ‘ট্রমা’ কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্যের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে (২০২৬) স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পর্যটকদের মনের শুশ্রূষার কথা মাথায় রেখে দীঘা, দার্জিলিং এবং ফারাক্কায় তৈরি করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘অ্যাডভান্সড স্পেশালাইজড ট্রমা কেয়ার সেন্টার’। সম্প্রতি শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা স্মরণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এবারের বাজেটে রাজ্যের চিকিৎসাক্ষেত্রকে ঢেলে সাজাতে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
- রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি: সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রত্যেক রোগীর দৈনিক খাবারের বরাদ্দ সাড়ে ৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১১০ টাকা করা হয়েছে।
- বিনামূল্যে চিকিৎসা: বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০ শতাংশ শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে।
- মেডিক্যাল ট্যুরিজমে জোর: বাংলাদেশ, ভুটান, ভিয়েতনামের মতো বিদেশ থেকে আসা রোগীদের সুবিধার্থে রাজ্যের ৫টি জায়গায় পিপিপি (PPP) মডেলে থাকার সুব্যবস্থা করা হবে।
- দক্ষিণ ভারতে বাঙালিদের সুবিধা: যে সমস্ত বাঙালিরা ভিন রাজ্যে (বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে) চিকিৎসা করাতে যান, তাঁদের জন্য কম খরচে থাকার ব্যবস্থা করা হবে পিপিপি মডেলেই।
- কেন্দ্রীয় প্রকল্পের এন্ট্রি: রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসায় এবার পুরোদমে চালু হচ্ছে কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা) এবং ‘প্রধানমন্ত্রী অমৃত যোজনা’ (অপারেশনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০% পর্যন্ত ছাড় ও কম মূল্যে জীবনদায়ী ওষুধ)।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত পর্যটকদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে ট্রমা সেন্টার তৈরির প্রস্তাব প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, “দীঘায় তিন মাস পরপর প্রচুর মানুষ জলে ডুবে মারা যান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের কথা ভেবেই এই অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন।”