ভয়ংকর চক্রান্ত! জুনের গরমে হুডি পরা যুবকই ধরিয়ে দিল পুণের খুনিদের

প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট ও জন্মদিন উদযাপনের আড়ালে হবু স্বামীকে পাহাড় থেকে ফেলে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কেঁপে উঠেছে গোটা দেশ। পুণের লোহাগড় দুর্গে ৩৫০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে কেতন বিশাল আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে নিছক দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে ভয়ংকর এক ষড়যন্ত্রের চিত্র। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যেভাবে খুলল রহস্যের জট
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সিয়া এবং চেতনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। খুনের ঘটনাটিকে নিঁখুত দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর পরিকল্পনা থাকলেও তদন্তকারীদের একটি তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে পুরো চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায়। লোহাগড় দুর্গ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার সময় পুলিশের নজরে আসে এক সন্দেহভাজন যুবক, যে সিয়া ও কেতনের গাড়ির অনুসরণ করছিল। জুন মাসের ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভ্যাপসা গরমে ওই যুবকের পরনে হুডি দেখেই সন্দেহ দৃঢ় হয় পুলিশের। লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে সিয়া খুনের কথা স্বীকার করে নেন এবং জানা যায় ওই হুডি পরিহিত যুবকই তাঁর প্রেমিক চেতন। পরবর্তীতে মোবাইল রেকর্ড ও ডিজিটাল প্রমাণও এই ষড়যন্ত্রের সত্যতা নিশ্চিত করে।
পূর্বপরিকল্পনা ও করুণ পরিণতি
আগামী নভেম্বরেই সিয়া ও কেতনের চার হাত এক হওয়ার কথা ছিল এবং এই বিলাসবহুল বিয়ের জন্য ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রাসাদও বুক করা হয়েছিল। কিন্তু একটি অনৈতিক সম্পর্ক ও পরিকল্পিত হত্যার জেরে সেই আনন্দানুষ্ঠান পরিণত হয়েছে এক মর্মান্তিক বিষাদে। পরিকল্পিত এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডটি সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম বিশ্বাসভঙ্গ ও অবক্ষয়ের একটি ভয়ংকর উদাহরণ তৈরি করেছে, যা সমাজে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।