ইতিহাসে প্রথমবার লক্ষাধিক জওয়ান! নজিরবিহীন নিরাপত্তায় মুড়ল অমরনাথ যাত্রা

আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত অমরনাথ যাত্রা। তবে এবারের তীর্থযাত্রা অন্যান্য বছরের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় জম্মু ও কাশ্মীরে মোতায়েন করা হচ্ছে ১ লক্ষেরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী। অমরনাথ যাত্রার ইতিহাসে এর আগে কখনও এত বিপুল পরিমাণ আধাসেনা বা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। প্রায় ৬৭০ কো ম্পা নিরও বেশি সিএপিএফ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং ভারতীয় সেনা মিলিয়ে গোটা যাত্রাপথকে আক্ষরিক অর্থেই একটি নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত করা হচ্ছে।
নজিরবিহীন নিরাপত্তার কারণ ও প্রস্তুতি
মূলত অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সম্ভাব্য জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতেই এই অভূতপূর্ব নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। দুর্গম ও বেশি উচ্চতার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভারতীয় সেনা কড়া নজরদারি চালাবে। পুণ্যার্থীদের জন্য নির্ধারিত অনন্তনাগ থেকে ৪৮ কিলোমিটার এবং গান্দেরবাল থেকে ৩৪ কিলোমিটার— এই দুই যাত্রাপথের এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে শুরু করে বেসক্যাম্প এবং পবিত্র তুষারলিঙ্গ পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। পুণ্যার্থীরা পৌঁছনোর আগেই গোটা যাত্রাপথে বাহিনী মোতায়েনের কাজ সম্পন্ন হবে। বাহিনী শুধু নিরাপত্তাই নয়, তীর্থযাত্রীদের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দিকটিও নজরে রাখবে।
যাত্রার সূচি ও সম্ভাব্য প্রভাব
শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবারের যাত্রা চলবে টানা ৫৭ দিন ধরে এবং শেষ হবে ২৮ আগস্ট রাখি পূর্ণিমার পুণ্যলগ্নে। মূল যাত্রার আগে আগামী ২৯ জুন জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমায় পালিত হবে ‘প্রথম পুজো’। উন্নত রেল যোগাযোগ, বিশেষত বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনের সুবিধা থাকায় এ বছর পুণ্যার্থীদের রেকর্ড ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখেই প্রশাসনের তরফে পথে পথে লঙ্গর, চিকিৎসা শিবির ও অস্থায়ী আবাসন তৈরি করা হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলে এবারের অমরনাথ যাত্রা একদিকে যেমন পুণ্যার্থীদের মনে সাহস ও নির্ভরতা জোগাবে, তেমনই উপত্যকার পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।