ভেঙে ঝুলছে বিপক্ষ ফুটবলারের হাঁটু! কাতারি ডিফেন্ডারকে নজিরবিহীন শাস্তি দিল ফিফা

কানাডা এবং কাতারের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। আয়োজক দেশ কানাডার ৬ গোলের দাপুটে জয়ের ম্যাচে মারাত্মক ট্যাকলের শিকার হয়েছেন কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে। ম্যাচের ৫২ মিনিটের মাথায় কাতারের ডিফেন্ডার আসিম মাদিবো পিছন থেকে কড়া ট্যাকল করলে মাঠে লুটিয়ে পড়েন ইসমায়েল। এই ফাউলের জেরে বিশ্ব ফুটবলে একটি নজিরবিহীন শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ফিফা।
মারাত্মক চোট ও অস্ত্রোপচার
ট্যাকলের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, ইসমায়েলের বাঁ-পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ আক্ষরিক অর্থেই ভেঙে ঝুলতে দেখা যায়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা এই মিডফিল্ডারকে দ্রুত স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে কানাডার কোচ জেসি মার্শও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তাঁর বাঁ পায়ের টিবিয়া এবং ফিবুলা হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙেছে এবং ইতিমধ্যেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। সেরে উঠতে বেশ কয়েকমাস সময় লাগবে তাঁর, যা কানাডা দলের মধ্যমাঠের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
ফিফার কড়া পদক্ষেপ
মাঠে তাৎক্ষণিকভাবে লাল কার্ড দেখার পর মাদিবোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করে এই আচরণকে ‘সিরিয়াস ফাউল প্লে’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ, কাতারি ডিফেন্ডারকে ৫ ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র ফাউল বা ট্যাকল করার অপরাধে এত বড় শাস্তির নজির বিশ্ব ফুটবলে অত্যন্ত বিরল। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কাতার আপিল করার সুযোগ পেলেও, ফিফার এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মাঠে খেলোয়াড়দের মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসী আচরণের উপর বড়সড় প্রভাব ফেলবে এবং রেফারিদের আরও কঠোর হতে সাহায্য করবে।