‘বাংলায় জেহাদিদের জায়গা হবে না!’ বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মবার্ষিকীতে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

কলকাতা: ‘লাভ জেহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জেহাদ’-এর মাধ্যমে বাংলাকে একসময় দুর্বল করে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “লাভ জেহাদ, ল্যান্ড জেহাদ ও ধর্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। তারা আমাদের সনাতনী সংস্কৃতিকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। বাংলার জনগণ তাদের চিনে ফেলে আমাদের ক্ষমতায় এনেছে, আর এখন আমাদের দায়িত্ব বাংলাকে পুরোপুরি বাঁচানো।”
সরকারের পদক্ষেপ ও হুঁশিয়ারি
অনুপ্রবেশ রুখতে তাঁর সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে, তা স্পষ্ট করে শুভেন্দু জানান:
- সীমান্ত সুরক্ষা: বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
- হোল্ডিং সেন্টার: চিহ্নিত অনুপ্রবেশকারীদের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হচ্ছে এবং তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- কঠোর আইন: ল্যান্ড ও লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে আগামী দিনে কঠোর আইন আনা হবে।
‘ঠোঁট নাড়তেই হবে!’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু জায়গায় দেখছি বন্দেমাতরম গাইতে উঠে দাঁড়ালেও ঠোঁট নড়ছে না। একটু অপেক্ষা করুন, তাঁদের ঠোঁটও নাড়তে হবে, সেই ব্যবস্থাও করে দেব।”
বঙ্কিমচন্দ্র, নেতাজি ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “চৈতন্যদেব, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে দেশবিরোধী কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না।” শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘এক দেশ, এক বিধান, এক নিশান’ স্লোগানকেই আগামী দিনে বাংলার পথচলার পাথেয় হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।