ধ্বংসস্তূপ ভেনেজুয়েলায় ৯২০ জনের মৃত্যু! জোড়া ভূমিকম্পের পর ফের কম্পনে তীব্র আতঙ্ক
.jpeg.webp?w=800&resize=800,450&ssl=1)
প্রকৃতির ভয়াল রোষে কার্যত শ্মশানে পরিণত হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। দু’দিন আগে ঘটে যাওয়া ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার বিকেলে ফের ৪.৯ মাত্রার কম্পনে কেঁপে ওঠে কারাকাস এবং মারাকে অঞ্চল। জোড়া ভূমিকম্পের জেরে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৯২০ ছুঁয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৩,৩৬০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্থর উদ্ধারকাজ ও চরম দুর্ভোগ
নতুন করে হওয়া এই কম্পন সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও বড়সড় বাধা তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কোনও খোঁজ মিলছে না। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা লা গুয়াইরা রাজ্যের। সেখানে বহুতল ভেঙে পড়ায় স্বজনদের জীবিত উদ্ধারের আশায় সাধারণ মানুষ খালি হাতেই কংক্রিটের চাঁই সরানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পের জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, অস্থায়ী শিবিরগুলোতেও ঘরছাড়া মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আর্থিক ধাক্কা ও রাজনৈতিক সংকট
গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় এটি সবচেয়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। জাতিসংঘের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে দেশের সরাসরি প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উদ্ধারকাজের ধীর গতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। এই ভয়ংকর পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সামনে এক কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ত্রাণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।