বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর তোড়জোড়, মেরুকরণের অভিযোগ তুলে সরব তৃণমূল!

বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর তোড়জোড়, মেরুকরণের অভিযোগ তুলে সরব তৃণমূল!

রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) চালুর প্রক্রিয়া শুরু হতেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সোমবার বিধানসভায় এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে বিল পেশের আগেই বিজেপির এই পদক্ষেপকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সরকারের এই উদ্যোগকে দেশের প্রকৃত কল্যাণের বদলে রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির।

রাজনৈতিক ফায়দা বনাম সাংবিধানিক নৈতিকতা

তৃণমূলের স্পষ্ট অভিযোগ, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই ভারতের মূল শক্তি, সেখানে ওপর থেকে জোর করে কোনও সামাজিক সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া যায় না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের আদর্শের পক্ষপাতী হলেও বিজেপির আসল উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান তারা। তৃণমূলের দাবি, দীর্ঘদিনের চেনা কৌশলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিভাজন আরও গভীর করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। আলাপ-আলোচনা ও সাংবিধানিক মূল্যবোধকে এড়িয়ে এমন সংবেদনশীল বিষয়কে কেবলমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছে তারা।

আদিবাসী অধিকার ও সম্ভাব্য প্রভাব

ইউসিসি-র মতো স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার দাবি তুলেছে তৃণমূল। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায় এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মতামত ও উদ্বেগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়া একতরফাভাবে এই আইন চাপিয়ে দিলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। তবে নবান্ন সূত্রে খবর, প্রস্তাবিত বিলে পাহাড় ও জঙ্গলমহলের কিছু বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রচলিত রীতি-নীতি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এই আইনের চূড়ান্ত রূপ ও বৃহত্তর সামাজিক প্রভাব ঠিক কী হবে, তা বিধানসভায় বিল পেশ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *