‘শুধু কালীতে হবে না, দোয়াত-পেনও চাই!’ নাম না করে ফিরহাদকে সরাসরি গ্রেফতারির দাবি কল্যাণের

‘শুধু কালীতে হবে না, দোয়াত-পেনও চাই!’ নাম না করে ফিরহাদকে সরাসরি গ্রেফতারির দাবি কল্যাণের

কলকাতা: তারাতলা গোডাউন ধস ও দুর্নীতির অভিযোগে ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এবার কালীচরণকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে নাম না করে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘কালী আছে, দোয়াত-পেন কোথায়?’

মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুধু কালী ধরলে হবে না। কালি তো দোয়াতে রাখতে হয়, দোয়াতটা কই? আর কালি দিয়ে যে লিখবে, সেই পেনটাকেও ধরুন।” কার্যত তৃণমূল সাংসদ বুঝিয়ে দিলেন, দুর্নীতিতে শুধুমাত্র ওএসডি-কে ধরলেই হবে না, এর মূল হোতা অর্থাৎ ‘পেন’ বা যার সইয়ে বেআইনি কাজ হয়েছে, তাঁকেও গ্রেফতার করা উচিত। এভাবেই তিনি ঘুরিয়ে ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন।

জাভেদ ও ঋতব্রতকে নিয়েও তোপ

শুধু ফিরহাদ নয়, তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খান ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও এদিন চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন কল্যাণ। তাঁর কথায়:

  • “যিনি গরিব মুসলিমদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করেছেন ও অবৈধ নির্মাণ করেছেন, সেই জাভেদ খানকে ধরা হচ্ছে না কেন?”
  • “যেদিন আপনি জাভেদ খান বা ঋতব্রতর মতো অভিযুক্তদের গ্রেফতার করাতে পারবেন, সেদিনই বুঝব আপনি সত্যিকারের রাজধর্ম পালন করছেন।”

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও হুঙ্কার

সাংসদ এদিন আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরে যে ‘বি-টিম’ সক্রিয় রয়েছে, সেখানেই চোর-ডাকাত বেশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে যারা দলের ভেতরে থেকেই ফায়দা লুটছে, তাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে কুণাল ঘোষও তারাতলা কাণ্ডে প্রাক্তন মেয়রের দায় থাকলে তাঁর গ্রেফতারির দাবি তুলেছিলেন। একদিকে দলের অন্দরের এই বিদ্রোহ, অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে একের পর এক নেতার এই আক্রমণ—সব মিলিয়ে তারাতলা কাণ্ডকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরেই এখন অস্বস্তির পারদ তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *