তৃণমূল নেতাকে দড়িতে বেঁধে রাস্তায় ঘোরালেন গ্রামবাসীরা! ডিম ছুড়ে চলল গণধোলাই

কোচবিহার: কোচবিহারে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। বিধানসভা নির্বাচনের সময় স্পিকারের কনভয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এক তৃণমূল নেতাকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য বাজারে ঘোরানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। শনিবার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের মাথাভাঙার কেদারহাটে।
কী অভিযোগ?
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম ফজরুল হক, যিনি কোচবিহার-১ ব্লকের ঘঘুমারি এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ:
- কনভয়ে হামলা: নির্বাচনের আগে বিধানসভার বর্তমান স্পিকার তথা কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর কনভয়ে একাধিকবার হামলার নেপথ্যে ফজরুলের হাত ছিল।
- ভয় দেখানো ও দুর্নীতি: এলাকায় সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেওয়া, বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো এবং বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
- সাম্প্রদায়িক উস্কানি: ওই নেতা এলাকায় নিয়মিত সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়াতেন বলেও অভিযোগ।
গণপিটুনি ও উদ্ধার
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ফজরুল এলাকায় বেপাত্তা ছিলেন। শনিবার দুপুরে তাঁকে এলাকায় দেখা মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। অভিযোগ, তাঁরা ফজরুলকে ধরে কোমরে দড়ি বেঁধে মারধর করতে করতে ঘুঘুমারি বাজারে ঘোরান। সেই সময় তাঁর দিকে কাঁচা ডিমও ছুড়ে মারা হয়।
শেষপর্যন্ত বিজেপি নেতাদের হস্তক্ষেপে ওই নেতাকে বাঁধনমুক্ত করা হয়। বিজেপি নেতা আঁখিরঞ্জন পাল জানান, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই নেতার অত্যাচার সহ্য করেছেন, তাই জনরোষ ফেটে পড়েছে। তবে আইন যাতে কেউ হাতে না নেয়, সে বিষয়েও তারা সতর্ক। শেষে বিজেপি নেতারা ওই তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।