সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেই মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল? জল্পনা তুঙ্গে

নয়াদিল্লি: আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের জোরালো জল্পনা ছড়িয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাৎ এবং সব মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গে তাঁর জরুরি বৈঠক এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
কেন এই জল্পনা ও বাস্তবতা কী?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনেই লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং ‘এক দেশ এক ভোট’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করাতে মরিয়া মোদী সরকার। এই অবস্থায় মন্ত্রিসভার রদবদল ঘটিয়ে কাউকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি নিতে চাইছে না শাসকদল। কারণ, মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়া নেতাদের ক্ষোভ সংসদে বিল পাশের ক্ষেত্রে ভোটাভুটিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সরকারের লক্ষ্য এখন রদবদলের চেয়ে বিল পাশ করানোয় বেশি সমর্থন জোগাড় করা।
কী বাধা রয়েছে?
- সময়ের অভাব: প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সূচি এবং বিদেশ সফর (জাপান, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড) মিলিয়ে ২০ জুলাইয়ের আগে মন্ত্রিসভার রদবদল করার মতো পর্যাপ্ত সময় হাতে নেই। রদবদল হলেও নতুন মন্ত্রীদের প্রস্তুতির জন্য সময় পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
- বিজেপির অন্দরমহল: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মন্ত্রিসভার রদবদল পিছিয়ে গিয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এতে দলের অন্দরে অসন্তোষ এড়ানো সহজ হবে।
সরকারের পাখির চোখ:
গত এপ্রিলে মহিলা সংরক্ষণ বিল ও আসন পুনর্বিন্যাসের কৌশল নিয়ে বিরোধীদের বিরোধিতার মুখে পিছু হটতে হয়েছিল সরকারকে। দুই কক্ষেই পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সেবার বড় ধাক্কা খেয়েছিল মোদী শিবির। এবার তাই অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র। ২০২১ সালের জুলাই মাসে অধিবেশনের ঠিক আগেই মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন আনার নজির থাকলেও, এবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল বলে মনে করছেন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ।
সব মিলিয়ে, আসন্ন অধিবেশনের সাফল্য নিশ্চিত করাই এখন নরেন্দ্র মোদীর প্রধান অগ্রাধিকার। রদবদলের বিষয়টি আপাতত সেই লক্ষ্যের কারণেই স্থগিত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।