কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহে স্বস্তি নেই অভিষেকের! হাই কোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ

কলকাতা: ডিজে (DJ) মামলার তদন্তে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে সাড়া দিল না কলকাতা হাই কোর্ট। নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা করেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ, মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ— “তদন্তে কোনটা প্রয়োজন, আর কোনটা নয়, তা তদন্তকারী সংস্থাকে বলে দিতে পারে না আদালত।”
হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও মামলার প্রেক্ষাপট:
১. নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ: ডিজে মামলার তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য বিধাননগর আদালত নির্দেশ দিয়েছিল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহের দিন ধার্য ছিল।
২. অভিষেকের আপত্তি: নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। তাঁর আইনজীবীর সওয়াল ছিল, অভিষেক যেহেতু ওই মন্তব্য করেছেন বলে স্বীকারই করছেন, তাই নতুন করে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা নেই।
৩. বিচারপতির মন্তব্য: বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এ দিন সওয়াল-জবাবের সময় বলেন, “তদন্তে কোনটা প্রয়োজন, তা তদন্তকারী সংস্থা ঠিক করবে, আদালত তা বলে দিতে পারে না।” পাশাপাশি, অভিষেকের মূল মামলাটি অন্য বেঞ্চে বিচারাধীন এবং সেখানে তাঁর রক্ষাকবচ রয়েছে। সেই থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন করে রক্ষাকবচের আবেদন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি।
বর্তমানে পরিস্থিতি কী?
আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন খারিজ করে মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনিই স্থির করবেন কোন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে অভিষেকের বিরুদ্ধে সিআইডি (CID) এফআইআর দায়ের করেছিল। যদিও সেই মূল মামলায় অভিষেক হাই কোর্ট থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ পেয়েছেন, কিন্তু মামলার শর্ত অনুযায়ী তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। হাই কোর্ট স্পষ্ট করেছে, তদন্তে সহযোগিতা না করলে তদন্তকারী সংস্থা আইনানুগ পদক্ষেপ নিতেই পারে। আজকের হাই কোর্টের রায়ের পর এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।