কনফেডারেশনের অস্তিত্বই নেই! তবুও বিক্রি হচ্ছে ফর্ম? টলিপাড়ায় তুঙ্গে বিভ্রান্তি

কনফেডারেশনের অস্তিত্বই নেই! তবুও বিক্রি হচ্ছে ফর্ম? টলিপাড়ায় তুঙ্গে বিভ্রান্তি

কলকাতা: টলিউডের অন্দরে নতুন করে দানা বাঁধছে ধোঁয়াশা। ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর জমানা শেষের স্বপ্ন দেখলেও, ইন্ডাস্ট্রি এখন আচ্ছন্ন এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তায়। মূল বিতর্ক ঘনীভূত হয়েছে একটি ‘কনফেডারেশন’-কে কেন্দ্র করে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর— সকলেই এমন কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। অথচ অভিযোগ, সেই অস্তিত্বহীন সংগঠনেরই সদস্যপদ পাওয়ার ফর্ম বিক্রি হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে!

ফর্ম বিক্রি ও টাকা নিয়ে বিতর্ক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, টলিপাড়ায় নাকি ৭০০ টাকার বিনিময়ে প্রায় দেড় হাজার ফর্ম বিক্রি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তাঁর দাবি, “ফর্মের ওপর স্পষ্ট লেখা আছে যে তা অর্থের বিনিময়ে বিক্রিযোগ্য নয়। এসবই ভুয়ো খবর।” পাপিয়ার পাল্টা অভিযোগ, স্বরূপ বিশ্বাস হাজতে থাকলেও তাঁর ঘনিষ্ঠরা বাইরে থেকে এই ধরনের মিথ্যা রটাচ্ছেন। তবে সংগঠনটি যে রাজ্য সরকার বা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নয়, তা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।

সমান্তরাল কমিটির বৈঠক নিয়ে জল্পনা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর ইতিমধ্যে টলিউডের স্বার্থরক্ষায় একটি কমিটির কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু তার আগেই বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর পক্ষ থেকে একটি ‘অস্থায়ী’ কমিটি গড়ার জন্য বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর। প্রযোজক সানি ঘোষ রায় এবং সৃজিৎ রায় নিশ্চিত করেছেন যে, সৈকত নামের এক সাপ্লায়ারের মাধ্যমে তাঁদের কাছে বৈঠকের ডাক এসেছিল। যদিও সেই বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

কী বলছেন রুদ্রনীল? বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের চারজনকে (রূপা, পাপিয়া, রুদ্রনীল, হিরণ) দায়িত্ব দিলেও, আমরা নিজেরা একক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। সমস্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মাধ্যমেই আসবে।” শমীক ভট্টাচার্যের সুরেই তিনিও জানিয়েছেন, কনফেডারেশনের কোনো বৈধতা নেই। পাপিয়ার ডাকা বৈঠকের প্রসঙ্গে রুদ্রনীলের সংযোজন, “কেন তিনি বৈঠক ডাকতে চেয়েছিলেন জানি না, হয়তো ব্যক্তিগত কোনো কারণ থাকতে পারে।”

অনিশ্চয়তার অবসান চায় টলিপাড়া সব মিলিয়ে টলিউডের অন্দরে এখন প্রশ্ন একটাই— সরকারি কমিটি থাকা সত্ত্বেও কেন বারংবার এমন সমান্তরাল উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে? ইন্ডাস্ট্রি এখন দীর্ঘ ৩৬ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন করে বাংলা ছবির প্রযোজনায় ফিরতে চাইছে। সেখানে এই ধরনের ধোঁয়াশা কতটা কাম্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কলাকুশলীদের অনেকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *