কলকাতা পুরসভায় ঐতিহাসিক বদল: ১৪৪ থেকে বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা, গঠিত ১৬ কমিটি

কলকাতা পৌরনিগমের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। শহরের ওয়ার্ড সংখ্যা বর্তমানের ১৪৪টি থেকে বাড়িয়ে ২০০টি করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে, এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৬টি বিশেষ ‘বরো সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
কী এই নতুন পরিকল্পনা?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে কলকাতা পুরসভা তাদের প্রশাসনিক মানচিত্র বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৮০ সালের কলকাতা পৌরসংস্থা আইন সংশোধন করে ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির এই বিশাল কর্মযজ্ঞের তদারকির জন্য গত ১০ জুলাই পুরসভার পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় এবং বরো স্তরে কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
১৬টি কমিটির মূল দায়িত্ব:
নতুন গঠিত এই কমিটিগুলি মূলত মাঠপর্যায়ে কাজের তদারকি করবে। তাদের প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে রয়েছে:
- মাঠপর্যায়ে সমীক্ষা: প্রস্তাবিত নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা সরাসরি যাচাই করা।
- তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন: বর্তমান ও নতুন প্রস্তাবিত সীমানা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নথিভুক্ত করা।
- মানচিত্র প্রস্তুত: নির্দিষ্ট নিয়মে ওয়ার্ডের সংশোধিত মানচিত্র তৈরি করা।
- রিপোর্ট পেশ: কাজ শেষ হলে তা চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেওয়া।
কমিটির গঠন:
পুরসভার অভিজ্ঞ আধিকারিকদের নিয়ে এই কমিটিগুলি সাজানো হয়েছে। প্রতিটি বরোর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন। এছাড়াও নোডাল অফিসার হিসেবে থাকছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং সদস্য হিসেবে থাকছেন অ্যাসেসর কালেক্টর ও স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কী?
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়লে কলকাতার নাগরিক পরিষেবা এবং প্রশাসনিক কাজের পরিধি আরও বিকেন্দ্রীকরণ হবে, যার ফলে সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত ও উন্নত পরিষেবা পাবেন। এই লক্ষ্য পূরণ করতে এখন থেকেই অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়াটি কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে। আপনি কি মনে করেন ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় এলাকায় নাগরিক পরিষেবার মান কতটা উন্নত হবে?